বিবাহিত হলেও ছাত্রদলের কমিটিতে পদের জন্যে তাদের অনশন!

বিবাহিত হলেও ছাত্রদলের কমিটিতে পদের জন্যে তাদের অনশন!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ২৮ বছর পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রত্যক্ষ ভোটে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক হন ইকবাল হোসেন শ্যামল। তাদেরকে শিগগিরই কেন্দ্রের পূর্নাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্ত তার কথার অবাধ্য হয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বিবাহিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবি, ‘ছাত্রদলের রাজনীতি করার সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজপথের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের শুধুমাত্র বিবাহিত হওয়ার অজুহাতে কমিটি থেকে বাদ দেয়ার চক্রান্ত হচ্ছে।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে পূর্বে কোনো শর্ত দেয়া না থাকলেও, বর্তমানে ছাত্রদলের কাউন্সিলে শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবাহিতরা প্রার্থী হতে পারবেন না। ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ছাত্রদলের কাউন্সিলে এমনটাই শর্ত আরোপ করেছিলেন সদ্য বিদায়ী কমিটির সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন।

বিবাহিত নেতাদের ছাত্রদল করতে চাওয়ার এই আবদার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে বর্তমানে বিরক্তির কারণ। ছাত্রত্ব পার হওয়ার পর নেতাদের যুবদলে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও, বয়স্ক ও বিবাহিত নেতাদের ছাত্রদল করতে চাওয়ার এই আন্দোলন হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে সাফল্য পেতে ‘বিবাহিত ও বুড়োদের সংগঠন’ এমন সমালোচনা থেকে ছাত্রদলকে বের করতে চাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এই নিয়ে বর্তমানে কারাবন্দী থাকা অবস্থায়ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে সাক্ষাতে নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু ছাত্রদলের বয়স্ক নেতারা কোনোভাবেই সংগঠন পরিবর্তন করতে নারাজ। এর কারণ জানতে চাইলে বিএনপির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘মূলত যুবদলের তুলনায় ছাত্রদলে নেতাদের পকেট ভারী হবার সুযোগ বেশি হওয়ায় এমনটা হচ্ছে, এটা নিয়ে আমরা স্কাইপে নেতার সাথে (তারেক জিয়া) কথা বলবো।’

বয়স্ক নেতাদের এই অন্যায় গোঁ ধরাকে দেশের রাজনীতির জন্যে ভালো চোখে দেখছেন না রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা। এটি বিএনপির দলীয় শৃষ্টাচারের চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন তারা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *