বিশ্ব গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার সংবাদ

বিশ্ব গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার সংবাদ

তাজা খবর:

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের ঢাকার পরিস্থিতি এবং বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ও আটকের ঘটনা নিয়ে পরের দিন ২৭ মার্চ বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশের পত্রিকা বা সংবাদ সংস্থায় খবর প্রকাশিত হয়।

এতে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এক গুপ্ত বেতার থেকে জনসাধারণের কাছে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের পূর্বাংশকে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে নতুন নামকরণ করেছেন বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়।

আ.ফ.ম সাঈদের ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা: ফ্যাক্টস অ্যান্ড উইটনেস’ বই এবং বিবিসির একটি প্রতিবেদনে এ বিষয়ে নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতা থেকে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের খবরে প্রকাশ যে পূর্ব পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এক গুপ্ত বেতার থেকে জনসাধারণের কাছে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।

ভয়েস অব আমেরিকার খবরে বলা হয়েছিল ‘ঢাকায় পাকিস্তান বাহিনী আক্রমণ শুরু করেছে। মুজিবুর রহমান একটি বার্তা পাঠিয়েছেন এবং সারা বিশ্বের নিকট সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।’

দিল্লির স্টেটসম্যানের খবর ছিল এরকম ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে, সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে রহমানের পদক্ষেপ। একটি গোপন বেতার থেকে প্রচারিত ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের পূর্বাংশকে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে নতুন নামকরণ করেছেন।’

ডেইলি টেলিগ্রাফ, লন্ডনে‘র ‘সিভিল ওয়ার ফ্লেয়ারস ইন ইস্ট পাকিস্তান: শেখ এ ট্রেইটর, সেইস প্রেসিডেন্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা ও ইয়াহিয়া খান তার বেতার ভাষণে শেখ মুজিবকে বিশ্বাসঘাতক বলার কথা উল্লেখ করা হয়।

গার্ডিয়ানের ২৭ মার্চ সংখ্যায় বলা হয়, ‘২৬ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাতির উদ্দেশ্যে রেডিওতে ভাষণ দেয়ার পরপরই ভয়েস অব বাংলাদেশ নামে একটি গোপন বেতারকেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছে।’

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারস হেরাল্ডের ২৭ মার্চের সংখ্যার একটি খবরের শিরোনাম ছিল, ‘বেঙ্গলি ইন্ডিপেন্ডেন্স ডিক্লেয়ার্ড বাই মুজিব।’ নিউইয়র্ক টাইমসে শেখ মুজিব ও ইয়াহিয়ার ছবি ছাপিয়ে বলা হয় ‘স্বাধীনতা ঘোষণার পর শেখ মুজিব আটক’।

বার্তা সংস্থা এপির এ সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, ‘ইয়াহিয়ার পুনরায় মার্শাল ল ঘোষণা ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পূর্ব পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে।’

আয়ারল্যান্ডের আইরিশ টাইমসের শিরোনাম ছিল– ‘পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা’ আর সাথে ছিল শেখ মুজিবের ছবি। দিল্লি- থেকে রয়টার্সের খবরে ১০ হাজার মানুষের নিহত হবার ও স্বাধীনতা ঘোষণার পর মুজিবকে সম্ভবত আটক করা হয়েছে, এমন কথা বলা হয়। ব্যাংকক পোস্টের খবরে বলা হয়, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ নাম দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের আশংকা।’

এর বাইরে ভারতের বহু সংবাদপত্র এবং আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ক্যানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, হংকং, নরওয়ে, তুরস্ক, সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশের খবরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার খবর স্থান পায়।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে অতর্কিতে নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা করে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *