ভারতকে পরম বন্ধু বিবেচনা করে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

ভারতকে পরম বন্ধু বিবেচনা করে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

তাজা খবর:

বাংলাদেশ ভারতকে এক পরম বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও উভয় দেশের মধ্যে সফর বিনিময় দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করে।’

সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোভিন্দের সঙ্গে বুধবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। সফরকালে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। খবর বাসসের

ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালকে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী বছর হিসেবে অভিহিত করেন, কারণ, এবছর দেশ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার এবং ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে।

তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ভারত সরকার এবং তাদের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা তিনটি অনুষ্ঠান উদযাপনে যোগ দিতে চলতি বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐতিহাসিক ও সফল বাংলাদেশ সফরের কথাও স্মরণ করেন।

১৯৬৫ সালের ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বিভিন্ন রুটে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সেই রুটগুলো পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বর্তমান মহামারি পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলমান সহযোগিতার জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোভিন্দ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ব্যাপক এবং প্রাণবন্ত বলে বর্ণনা করে বলেন, ‘আমরা যোগাযোগের ওপর জোর দিচ্ছি।’

তিনি জানান, তিনি বাংলাদেশে এসে খুশি হয়েছেন এবং কোভিড-১৯ এর পরে এটি তার প্রথম সফর বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্রের আদর্শ উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু-বাপুজি ডিজিটাল প্রদর্শনী ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করে ভারতের রাষ্ট্রপতি।

তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশই ভারত থেকে কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণকারী প্রথম দেশ এবং কোভিড-১৯ এর ওষুধ পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে বলেও এ সময় আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং আম পাঠানোর জন্য শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ওষুধ, কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন এবং প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠানোটা উভয় দেশের সহযোগিতার শুভেচ্ছার নিদর্শন এবং একে অপরকে সমর্থনের প্রতীক।

বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবাই তাদের নিজস্ব ধর্মীয় অধিকার ও আচার-অনুষ্ঠান পালনে স্বাধীন, এখানে কোনো বাধা নেই। ধর্ম ব্যক্তির, উৎসব সবার জন্য।’

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার, রাজদীপ রায় এমপি, ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিব কেডি ত্রিপাঠি, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *