ভারতের সঙ্গে ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তিঃ কি পেলো বাংলাদেশ?

ভারতের সঙ্গে ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তিঃ কি পেলো বাংলাদেশ?

নিজেদের প্রয়োজনে বাংলাদেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বব্যাংক সহ বিভিন্ন দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদের ঋণ নিয়ে থাকে। ভারত বাংলাদেশের সব থেকে কাছের বন্ধুরাষ্ট্র আর তাই ভারতের কাছে থেকে বিভিন্ন সময় অনেক বড় বড় ঋণ নেওয়া হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ অক্টোবর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ ছাড়া উদ্বোধন করা হয়েছে তিনটি যৌথ প্রকল্প।

ভারতের সাথে আওয়ামী লীগ সরকার এর আগেও ঋণচুক্তি করেছে। ২০১০ সালের আগষ্টে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারত ১০০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি সই করে। এই চুক্তির আওতায় ১৫টি প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে সরকার বিআরটিসির জন্য একতলা ও দোতলা বাস, রেলের ইঞ্জিন, ওয়াগন ও কনটেইনার, নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিএসটিআই) আধুনিকায়ন, অ্যাপ্রোচ রেললাইনসহ দ্বিতীয় ভৈরব ও দ্বিতীয় তিতাস সেতু এবং একাধিক রেললাইন নির্মাণ ও সংস্কার করে। এরপর ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার আরকটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। এতে করে কি কি সুবিধা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, দেখে নিন এক নজরে।

অর্থনৈতিক লাভঃ চুক্তিতে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে। এই চুক্তিতে বাংলাদেশ ভারতকে তার প্রদেয় ঋনের বিপরীতে মাত্র ১% সুদ দেবে। যা পরিশোধ হবে আগামী ৯ বছরে। বাংলাদেশ যদি অন্য কোন দেশ থেকে এই ঋণ নিত তবে সুদের পরিমাণ বেশি থাকতো। ভারতের সাথে চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশকে এই অতিরিক্ত খরচের টাকা দিতে হচ্ছে না। এখানে ঋণ চুক্তির আওতায় ভারত ৭৩৬ কোটি ২০ লাখ ডলার প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হলেও ছাড় করা হয়েছে মাত্র ৫৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। মূলত ঋণের বাকি টাকা ছাড়ের তাগিদ দেয়ার জন্যেই চুক্তিটি নবায়ন করা হয়। এই অর্থের সহযোগিতায় বাংলাদেশে সরকার ৪৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। উক্ত ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি করার ফলে ভারতীয় ‘লাইন অফ ক্রেডিট’- এর আওতায় প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড়ে গতি আসবে।

দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতিঃ ভারতের সাথে যত বেশি লেনদেন সম্পর্কে সংযুক্ত থাকতে পারবে বাংলাদেশ ততই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। একের পর এক লেনদেন ও চুক্তির ফলে বাংলাদেশ ভারতের কাছে সমাদৃত হতে থাকবে। লেনদেন বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের জন্য নতুন পণ্য বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচিত হবে। প্রস্তাবিত চুক্তির কাজ সমূহ বাস্তবায়ন করার জন্য বাংলাদেশের সাথে ভারতের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে। কেননা এ সময় প্রচুর পণ্য, পণ্যবাহী যানবাহন ও কর্মী এদেশ থেকে ভারতে যাতায়াত করবে এবং ভারত থেকে বাংলাদেশের যাতায়াত করবে। এভাবেই লেনদেন বৃদ্ধির ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাথে ভারতের নতুন পণ্যের বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচিত হবে।

বেকার সমস্যা সমাধানঃ এই চুক্তির ফলে দেশের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। ঋণের অর্থে সরকার মোট ৪৮টি প্রকল্পের কাজ করবে। যেখানে প্রচুর পরিমাণ কর্মী প্রয়োজন পড়বে, ফলে বাংলাদেশের বিরাট এক বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চুক্তিসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এর মাধ্যমে ফলে বাংলাদেশ অনেক দিয়ে সুবিধা ভোগ করবে। এখানে ভারতের একটাই পাওয়া তা হলো ঋণের সুদ। যেটি ভারত না হয়ে অন্য দেশ হলে বাংলাদেশের জন্যে আরো চড়া হতো। তাই বলা যায় ৫ অক্টোবরের চুক্তিটি ছিলো বাংলাদেশীদের জন্য অন্যরকম একটি পাওয়া। এর ফলে যেমন সুবিধা বাংলাদেশ পাবে তেমনেই ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আরকটি মাইলফলক রচনা করবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *