ভাসানচরে রোহিঙ্গা আশ্রায়নে সম্পৃক্ত হলো জাতিসংঘ

ভাসানচরে রোহিঙ্গা আশ্রায়নে সম্পৃক্ত হলো জাতিসংঘ

তাজা খবর:

ভাসানচরে সম্পৃক্ত হলো জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। শনিবার সকালে সচিবালয়ের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে, সরকার ও সংস্থাটির মধ্যে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়। আগামী ৩ মাসে আরো ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্খাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহসীন এবং ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি জোনাস ভ্যান ডেক ক্লাউ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতায় সই করেন। এর ফলে ভাসানচরে খাদ্য ও পুষ্টি, পানি, চিকিৎসাসহ নানা মানবিক কার্যক্রমে সরকারকে সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ।

এক সময় রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও অবস্থান পরিবর্তন করে ভাসানচরে শরণার্থীদের জন্য কাজ শুরু করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হল জাতিসংঘ।

এতে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। চুক্তির ফলে আগামী মাসেই ভাসানচরে কাজ শুরু করবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা- ইউএনএইচসিআর। এরই মধ্যে কক্সবাজার থেকে ১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে ভাসানচরের রোহিঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্প। পরে দু্র্যোগ ব্যবস্থাপণা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব মহসিন আলী জানান, জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ কর্তৃক কক্সবাজারের ন্যায় ভাসানচরেও মানবিক সহায়তা পরিচালিত হবে। বেসামরিক প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”

এসময় আরেক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, “নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নেওয়া হয়েছে ভাসানচরে। বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে আরও অতিরিক্ত ২০০ আনসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।”

বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ উদ্যোগে রোহিঙ্গা নাগরিকদের খাদ্য ও পুষ্টি, সুপেয় পানি, পয়ঃনিস্কাশন, চিকিৎসা, মিয়ানমার কারিকুলাম ও ভাষায় এফডিএমএনদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং জীবিকায়নের ব্যবস্থা করা হবে ভাসানচরে, যে কাজটি এতদিন সরকার একাই করে আসছিল।

বাংলাদেশ সরকার এখানে বসবাসরত এফডিএমএন ও কর্মরত জাতিসংঘ এবং এর সহযোগী সংস্থা ও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয় দেখাশুনা করবে। এছাড়া ভাসানচরে এফডিএমএনদের বসবাসের কারণে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় এলাকা ও জনগণের উপর যদি প্রভাব পড়ে, তা নিরসনে জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে ১১ লাখ রোহিঙ্গার সহাতায় জাতিসংঘ কাজ করে যাচ্ছিল। তবে কক্সবাজারের উপর চাপ কমাতে বাংলাদেশ সরকার যখন রোহিঙ্গাদের একাংশকে নোয়াখালীর জনবিরল দ্বীপ ভাসানচরে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়, তাতে বিরোধিতা করে বিশ্ব সংস্থাটি।

মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে রয়েছে। ২০১৭ সালে তার সঙ্গে যোগ হয় আরও ৭ লাখ রোহিঙ্গা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *