ভূল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, সীলগালা-জরিমানা পরও থামছেনা ভূয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম। তাজা খবর

ভূল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, সীলগালা-জরিমানা পরও থামছেনা ভূয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম। তাজা খবর

তাজা খবর:

ঢাকার অদূরে সাভার পৌর এলাকার উলাইল কর্ণপাড়া মহল্লায় ভূয়া চিকিৎসকের হাতে ভূল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে ওই নবজাতকের মায়ের অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় তাকে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার কর্ণপাড়া মহল্লার চায়ের দোকানি মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নবজাতকের মায়ের নাম আরজানা আক্তার (২২)। সে সাভার পৌর এলাকার উলাইল কর্ণপাড়া মহল্লার মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। এছাড়া নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ভূয়া চিকিৎসকের নাম শান্তা বেগম। সে ওই মহল্লার যমুনা ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক আরিফ বিল্লাহর স্ত্রী। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারী অনুমোদনহীনভাবে হাসপাতাল পরিচালনা এবং চিকিৎসক না হয়েও ভূয়া পদবি ব্যবহার করায় পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ডসহ হাসপাতালটি সীলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমান আদালত।

গুরুতর অসুস্থ্য আরজিনার মা শাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, গত শনিবার সকাল সাত টার দিকে আমার মেয়ের প্রসব ব্যাথা শুরু হয়। এসময় আমরা পাশর্^বর্তী ফার্মেসীর মালিক আবুল কাশেমের কাছে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিষয়ে জানতে চাই। পরে সে পাশর্^বর্তী যমুনা হাসপাতালের মালিকের স্ত্রী শান্তা বেগম নিয়ে আসেন এবং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এসময় জান্নাত ও নাসিমা নামে আরও দুইজন সহযোগী তার সাথে আসেন। পরবর্তীতে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে তারা সন্তান প্রসব করানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। এরই মধ্যে ভূয়া স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ শান্তা বেগম এবং ফার্মেসী মালিক আবুল কাশেম ৯-১০টি ভূল ইনজেশন পুশ করেন।

একপর্যায়ে তারা নবজাতকে মায়ের পেট থেকে বের করে আনলেও রোগীর শরীর থেকে রক্তপাত হতে থাকে। এঘটনায় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝতে পেরে ভূয়া চিকিৎসক শান্তা বেগম ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাচ্চাসহ মেয়েকে নিয়ে দ্রুত সাভার এনাম মেডিকেল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতক শিশুটিকে মৃত ঘোষনা করেন। এসময় নিহত শিশুটির মাকে আশঙ্ককাজনক অবস্থায় পাশর্^বর্তী কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে যমুনা ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক আরিফ বিল্লাহর স্ত্রী শান্তা বেগমের মুঠোফোনে কল করে প্রশ্ন করার পরই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর তা রিসিভ করেননি।

জানত চাইলে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সায়েমুল হুদা বলেন, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি সত্যিই মর্মান্তিক। আমরা কয়েকদিন আগেই ওই প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি সীলগালা করার পাশাপাশি পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *