মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম অংশের কাজ এখন দৃশ্যমান

মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম অংশের কাজ এখন দৃশ্যমান

তাজা খবর:

করোনা ভাইরাসের ধকল কাটিয়ে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে বহুল আকাক্সিক্ষত ও সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম অংশ এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান। কোথাও চলছে স্টেশনের ফেব্রিকেশনের কাজ আবার কোথাও চলছে রেলের ট্র্যাক বসানোর কাজ। একই সঙ্গে উড়াল সড়কের উপরে বিদ্যুতায়নের কাজও চলছে। সব মিলিয়ে প্রথম অংশের ৪ ভাগের মধ্যে ৩ ভাগ কাজ শেষ। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দ্বিতীয় অংশও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। করোনার কারণে পিছিয়ে পড়া কাজ এগিয়ে নেয়া চ্যালেঞ্জ হলেও প্রকল্পের সবাই দিন-রাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এখানে উত্তরা দক্ষিণ স্টেশন এখন একেবারেই দৃশ্যমান। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ৯টি স্টেশনের মধ্যে ইতোমধ্যেই ৮টি স্টেশনের ফেব্রিকেশন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন সবগুলোর সংযোজন কাজ চলছে। বাকি ১টি স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই অংশের প্রায় ১২ কিলোমিটার উড়াল সড়কের বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উড়াল সড়কের উপর ৪ কিলোমিটারের বেশি রেললাইন বসানোর কাজ এগিয়েছে। একই সঙ্গে উড়াল সড়কের উপর বিদ্যুতের খুঁটি বসানো ও বৈদ্যুতিক ক্যাবল টানা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ চলছে। আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের ডিপো, অপারেশন কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণ কাজ শেষ। এক কথায় দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন অংশে রাতের বেলায় মানুষ চলাচল থেমে গেলেও মেট্রোরেল প্রকল্পের কর্মীরা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দ্বিতীয় ধাপে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। এখানে এখন সুপার স্ট্রাকচার নির্মাণ কাজ চলছে। সবগুলো পিয়ার এখন দৃশ্যমান। ইতোমধ্যেই এখান থেকে বাংলামটর পর্যন্ত ৩৭টি পিয়ারের ওপর পিয়ারহেড বসানো হয়েছে। অন্য পিয়ারেও পিয়ারহেড বসানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। আগারগাঁও থেকে বাংলামটর পর্যন্ত মোট ৯০টি পিয়ারের উপর পিয়ারহেড বসানো হবে। এরপর একে একে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত দৃশ্যমান পিয়ারগুলোর উপরেও পিয়ারহেড বসানোর কাজ শুরু হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রকল্পের কাজ বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আর কোনো সমস্যা নেই। কাজ আর বন্ধ হবে না। বিদেশি প্রকৌশলীদের অনেকেই এখন কাজে যোগ দিয়েছেন। প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়লেও বর্তমান বর্ধিত মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ করার টার্গেট নিয়েই কাজ চলছে। অন্যদিকে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার কোনো সম্ভাবনাও এখন পর্যন্ত নেই। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম অংশে মেট্রোরেলেই যাত্রীরা চলাচল করতে পারবে। এই লক্ষ্য নিয়েই প্রকল্পের সার্বিক কাজ চলছে। করোনার প্রকোপ না বাড়লে আগামী বছরের শুরুতেই জাপান থেকে মেট্রোরেলের কোচ নৌপথে দেশে এসে পৌঁছবে।

লাল-সবুজের রংয়ে রাঙানো মেট্রোরেল কোচগুলো ঢাকায় পৌঁছার পরে ট্রেন লাইনে তোলা হবে। প্রতিটি কোচে একসঙ্গে ১ হাজার ৭৩৮ জন যাত্রী যেতে পারবে। প্রতিটি কোচের দুদিকে ৪টি বৃহৎ আকারের অটোডোর থাকবে।

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক জানান, করোনার সঙ্গে লড়াই করে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ এখন গতি নিয়ে এগিয়ে চলছে। আগামীতে করোনাকে মোকাবিলা করার সব ধরনের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। প্রকল্পে কর্মরত সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই কাজ চলছে। কেউ আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য নিজস্ব দুটি ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম অংশের কাজ সন্তোষজনক।

অন্যদিকে দ্বিতীয় অংশের কাজেরও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রকল্পের অবকাঠামো এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। জাপানে রেলের বগিগুলো শিপমেন্টের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী দুই মাসে পুরো প্রকল্পের কাজ অনেক এগিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *