মেডিকেল ইকুইপমেন্ট রপ্তানিতে বিপুল সম্ভাবনা

মেডিকেল ইকুইপমেন্ট রপ্তানিতে বিপুল সম্ভাবনা

তাজা খবর:

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারীতে অক্রান্তদের চিকিৎসায় এবং চিকিৎসকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল ইকুইপমেন্টের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ মেডিকেল ইকুইপমেন্ট রপ্তানি করতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কেন না বিশ্বের অন্তত ২০১টি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে খুবই কম সময়ের ব্যবধানে। ফলে খোদ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে চলছে পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), এন-নাইনটিফাইভ মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ভেন্টিলেটরের সংকট। এদিকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সরকার। কেননা বাংলাদেশ ইতিমধ্যে চাহিদার চেয়ে বেশি মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এর আগে বিশ্বের অনেক দেশে মাস্ক ও স্যানিটাইজার রপ্তানিও হতো। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ১২ মার্চ সাময়িকভাবে এসব রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা আবার অল্প সময়ের ব্যবধানে ২ এপ্রিল সার্কুলার দিয়ে তুলেও নেওয়া হয়েছে। খোদ আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, ইরান, ইতালি, স্পেনসহ বিশ্বের অনেক দেশই এখন মৃত্যুপুরী। চীন এ সংকট দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও দেশটির শিল্প-কারখানা এখনো খোলেনি। ফলে অন্য দেশের প্রয়েজানীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা সরবরাহ করতে পারছে না কোনো দেশই। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হয়েছে এক মাসের বেশি সময় আগে। যদিও এ দেশে এখনো এটি মহামারী আকার ধারণ করেনি, কিন্তু আগাম সতর্কতা হিসেবে সব ধরনের কল-কারখানা, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সবকিছুই বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্বল্প পরিসরে খোলা রয়েছে ব্যাংক এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রয়েছে গার্মেন্টস। এসব কারখানায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পোাশাক। তবে এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কারখানাগুলোতে পিপিই তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের চাহিদার বিপরীতে কিছুসংখ্যক পিপিই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহও করেছে বিজিএমইএ। এ মুুহূর্তে এ পিপিইর চাহিদা বিশ্বের সব দেশেই রয়েছে। ফলে এটা রপ্তানি করে একদিকে বিপর্যয় ঠেকাতে বিশ্বের এ সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখা সম্ভব, ঠিক তেমন বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা আগে আমাদের নিজেদের চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করছি। এখন অনেক কারখানাতেই পিপিই তৈরি করা হচ্ছে। এরই একটা অংশ আবার এন-নাইনটিফাইভ মাস্ক। সেটিও আমরা তৈরি করছি। তবে এটি আগামী ছয় মাসের আগে রপ্তানি করা সম্ভব হবে না। কেন না আগে তো নিজেদের চাহিদা মেটাতে হবে। এ ছাড়া এ মহামারী করোনাভাইরাসের স্থায়িত্বের বিষয়েও আমরা কেউ জানি না। এর বাইরে পিপিইর ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্টিফিকেশন খুবই জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন না দিলে কোনো দেশই রপ্তানি করতে পারবে না। ফলে আমাদেরও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দ্বারস্থ হতে হবে। এ ছাড়া যে দেশ নেবে তাদের নিজেদেরও সার্টিফাই হতে হবে।’ ফলে এসব নিয়ে বেশ জটিলতা রয়েছে বলে তিনি জানান। রুবানা বলেন, ‘তবে আশার কথা, আমরা নিজেদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হব খুব তাড়াতাড়ি। হয়তো আর কয়েক দিনের মধ্যে পিপিইর কোনো সংকট থাকবে না।’ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একটি সূত্র জানায়, এ মুুহূর্তে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে ভেন্টিলেটরের। তবে এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ অ্যাপ্রোন, পিপিই, মাস্কসহ অন্যান্য মেডিকেল সরঞ্জামের সংকট বাড়বে। কেননা এ মুহূর্তে চাহিদা প্রতিদিনই বাড়ছে কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে অনেক কম। কেন না করোনাভাইরাসের প্রভাবে আক্রান্ত বেশির ভাগ দেশই ইতিমধ্যে নিজেদের লকডাউন ঘোষণা করেছে। ফলে বাংলাদেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ম্যাসিভ আকার ধারণ না করলে এবং মোটামুটিভাবে উৎপাদন করতে পারলেও নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে পিপিইর পাশাপাশি ভেন্টিলেটরও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *