মোহা. শফিকুল ইসলাম কমিশনার, ডিএমপি > সুইচ টিপে সিগন্যাল ব্যবস্থা

মোহা. শফিকুল ইসলাম কমিশনার, ডিএমপি > সুইচ টিপে সিগন্যাল ব্যবস্থা

তাজা খবর:

এ শহরের রাস্তার অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হয়। সকালে এক রকম তো বিকালে অন্যরকম। বারবার রাস্তার চরিত্র বদলায়। এক রাস্তার সিগন্যাল সিস্টেম অন্য দিকের রাস্তায় কাজ করে না। নিদিষ্ট সময়ের জন্য সিগন্যাল বাতি জ্বালিয়ে সুষ্ঠুভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফলে হাতের ঈশারাতেই ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সুইচবোর্ড ব্যবস্থার সুপারিশ করেছি। সড়কের যানজট পরিস্থিতি মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সিসিটিভি দেখে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সুইচবোর্ড চেপে সিগানাল দেয়া হবে।

যানজট পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে গতকাল ভোরের কাগজকে এসব কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নানা কারণেই আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম ক্ষেতে হয়। আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা অন্যান্য জায়গার মতো নয়। চাইলেই ডিজিটাল সিগনালের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আবার কত জায়গায় কাজ চলছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের আবদুল গণি রোডের কেন্দ্রীয় কমান্ডিং সেন্টার থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে আমরা সব সময় যানজট পরিস্থিতি নজরদারি করব। সেখান থেকেই অবস্থা দেখে বোর্ডের সুইচ চেপে লাল, সবুজ ও হলুদ বাতি জ¦লবে। চাইলেই পরিবহন কিনতে পারা, পরিসংখ্যানের অভাব, চালক-মালিকের সমন্বয়হীনতা ও উন্নত গণপরিবহন না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রধান বলেন, একটি নগরীতে কী পরিমাণ গাড়ি চলছে। আরো কতগুলো চলতে পারবে বা চলা উচিত তার কোনো সঠিক হিসাব কারো কাছেই নেই। কিন্তু প্রতিদিনই সড়কে নতুন গাড়ি যোগ হচ্ছে। এখানে মালিক নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে চালককে গাড়ি দিয়ে দেয় পুরো দিনের জন্য। ফলে চালক তার টার্গেট পূরণের জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সে রাস্তায় গাড়ি বাঁকা করে অন্যদের পথ গতিরোধ করে। নানা কর্মকাণ্ড করে গাড়ি আর উন্নত পরিবহনের অবস্থায় থাকে না। কিন্তু এক অবাক করা নিয়ম ট্রাফিক পুলিশ জরিমানা করলে তা দিতে হয় মালিককে। ফলে চালকরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তিনি আরো বলেন, আমার ঢাকার একজন মা বা বোন কেন গণপরিবহনের উঠবে। আসলে সেই পরিস্থিতি কি আমরা তৈরি করতে পেরেছি। ফলে ব্যক্তিগত পরিবহন সংখ্যা বাড়ছে। একটি বাসে ৬০ জন যাত্রী চলতে পারে। যেখানে সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী নিয়ে ২টি ব্যক্তিগত গাড়ি একটি বাসের জায়গা নিয়ে নেয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সড়ক ও যানচলাচল ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য শহরে মেট্রোরেলসহ নানা প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব চালু হলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *