যেভাবে বদলে যাচ্ছে রাজশাহী

যেভাবে বদলে যাচ্ছে রাজশাহী

তাজা খবর:

উত্তরের প্রাচীন বিভাগীয় শহর পদ্মাপাড়ের রাজশাহী। নগরীজুড়ে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। সময়ের ব্যবধানে উন্নয়নযজ্ঞে পাল্টে গেছে পুরো রাজশাহী। উন্নয়ন দৃশ্য এখন চোখে পড়ার মতো। দেশের সবচেয়ে বসবাস উপযোগী শহর হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। নির্মল বায়ুর শহর হিসেবেও স্বীকৃত এ শহর। বর্তমানে কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়নযজ্ঞ চলছে এখানে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে শুরু করে প্রসার ঘটেছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। পর্যটন ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। শহরের উন্নয়নে সর্বস্ব দিয়ে স্বপ্নের মতো করে গড়ছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। তার আশা, আগামী ৫ বছরের মধ্যে রাজশাহী নগরী হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম বসবাস উপযোগী শহর হিসেবে। বাড়বে কর্মসংস্থান, পর্যটনের পরিধি। যানজটমুক্ত দেশের একমাত্র শহর হবে রাজশাহী। রাজশাহীতে বর্তমানে কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক। যার বেশির ভাগ অংশ এখন দৃশ্যমান। বিশাল কর্মযজ্ঞে মাথাচাড়া দিয়েছে পদ্মাপাড়ের বিশাল বিশাল অবকাঠামো। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে এটি। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার চালু হয়েছে। হাইটেক পার্ক পুরো চালু হলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে রাজশাহীভিত্তিক অন্তত ৪০ হাজার তরুণ-তরুণীর। এর পাশাপাশি রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানায় নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার। এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডের অগ্রগতি এখন প্রায় ৮০ ভাগের বেশি। ২২২ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রকল্পটি হাতে নিয়েছিল রাজশাহী সিটি করপোরেশন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদফতর। নভোথিয়েটারে আধুনিক প্রযুক্তির ডিজিটাল প্রজেক্টর সিস্টেমযুক্ত প্ল্যানেটরিয়াম, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ডিজিটাল এক্সিবিটস, ফাইভ-ডি সিমিউলেটর থিয়েটার, টেলিস্কোপ, কম্পিউটারাইজড টিকিটিং অ্যান্ড ডেকোরেটিং সিস্টেমসহ নানা সুবিধা থাকবে। ভবন নির্মাণ শেষ হলে দ্রুত অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংযোজন হবে নভোথিয়েটারে। সড়ক অবকাঠামো সম্প্রসারিত হচ্ছে এই নগরীতে। প্রতিটি প্রধান সড়ক উন্নীত হচ্ছে চার লেনে। এরপরও নগরীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে মূল নগরীতে ৫টি ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প। রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, রাজশাহীকে উন্নত, আধুনিক ও বসবাস উপযোগী নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। চলতি বছরেই নগরীর উন্নয়নে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। নগরী পাল্টাতে এ প্রকল্প মাইলফলক হিসেবে দেখছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। বৃহৎ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। যার অনেকগুলোর কাজ চলমান। কয়েকটি শেষের দিকে। রাজশাহী নগরীতে নির্মিত হতে যাচ্ছে আরও ৫টি ফ্লাইওভার ও ১৯টি অবকাঠামো উন্নয়ন। সম্প্রতি যার নকশা প্রণয়ন ও বিস্তারিত প্রকৌশল প্রণয়নে তিনটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, করোনায় মহামারীর মধ্যেও উন্নয়নকাজ চলছে। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সময়মতো টাকা ছাড় পেলে প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে বদলে যাবে নগরীর চেহারা।

মেয়র বলেন, রাজশাহীকে আরও উন্নত, আধুনিক ও বসবাস উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বিসিক শিল্পনগরী-২ ও চামড়াশিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। ২২টি পুকুর অধিগ্রহণ করে পার্কের মতো বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। কয়েকটির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। নগরীর পদ্মা নদীতীরবর্তী এলাকা সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু করা হবে। যা রাজশাহীবাসীর বহু দিনের দাবি। পদ্মাপাড় রাজশাহী নগরীর অন্যতম উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র। পদ্মাপাড় সংলগ্ন দরগাপাড়ায় অবস্থিত হযরত শাহ মখদুম (রহ.) এর মাজার শরিফ। পদ্মাপাড়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে লালন শাহ পার্ক। শাহ মখদুম (রহ.) মাজার শরিফ ও পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থী। নগরবাসীর বিনোদনের জন্য নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রকে আরও আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করতে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। বর্তমানে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ চলমান আছে শুধু শহর সৌন্দর্যের বিকাশে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নগরীর পূর্ব বুধপাড়ার পাশে মোহনপুর এলাকায় ২৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪ বছর ধরে পড়েছিল বাটারমোড় থেকে বটতলা সড়কটি। এখন সেই সড়কটি মসৃণ। প্রশস্ত সড়কের পাশে আছে আলো। রাস্তার মাঝে মাঝে ডিভাইডার। সেখানে লাগানো হয়েছে নানা জাতের ফুলগাছ। সেগুলো রাস্তার শোভা বাড়াচ্ছে। সড়ক, ড্রেন, সৌন্দর্যবর্ধন কাজে গতি এসেছে গত তিন বছরে। রাসিক সূত্র জানায়, ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মহানগরীর বিলসিমলা রেলক্রসিং থেকে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত বাইসাইকেল লেনসহ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ শেষ হয়েছে। ১২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী মহানগরীর উপশহর মোড় থেকে সোনাদীঘি মোড় ও মালোপাড়া মোড় থেকে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে। রাজশাহী-নওগাঁ সড়ক থেকে রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ, রাজশাহীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়), কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে এবং রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি নতুন রূপ পাচ্ছে। সোনাদীঘির হারানোর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ১৬ তলাবিশিষ্ট ‘সিটি সেন্টার’ নির্মাণ ও সোনাদীঘিকে সাজানোর চুক্তি করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থাপনা, মসজিদ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সোনাদীঘিকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। সোনাদীঘি মার্কেট ভেঙে সোনাদীঘিকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখন চলছে সোনাদীঘির পাড় নির্মাণ, মসজিদ নির্মাণ, উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সিটি সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ হলে অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র আর সোনাদীঘি হবে দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র। পুরো চিত্রই পাল্টে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *