যৌতুক না পেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে, প্রথম স্ত্রীকে পিটিয়ে ঘরছাড়া

যৌতুক না পেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে, প্রথম স্ত্রীকে পিটিয়ে ঘরছাড়া

তাজা খবর:

যশোরের কেশবপুরে প্রথম স্ত্রী খায়রুনেচ্ছা বেগমের কাছে চাহিদা মতো যৌতুক না পেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন স্বামী আমজাদ হোসেন। এরপর প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে ঘরছাড়া করেছেন স্বামী।

শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে স্বামীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন খায়রুন্নেছা। এরআগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার হাসানপু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন কেশবপুর উপজেলার ১১ হাসানপুর ইউনিয়নের হাসানপুর উত্তর পাড়ার মৃত আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ যশোরের মনিরামপুরের মৃত আবদুর রশিদের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিকভাবে প্রায় ৩০ বছর আগে আমজাদ ও খায়রুন্নেছার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সেলিনা খাতুন (২৬) বছরের এক মেয়ে ও রফিকুল ইসলাম (২৪) বছরের ছেলে রয়েছে। কিছুদিন ধরেই ব্যবসায়ের জন্য আমজাদ তার স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে টাকার জন্য চাপ দেয়। মেয়ের সুখের জন্য বাবাবাড়ি থেকে বিভিন্ন সময় আমজাদকে ৩লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এনে দেন। সম্প্রতি আমজাদ হোসেন বাবার বাড়ি থেকে আবার ৪ লক্ষ টাকা এনে দিতে স্ত্রীকে চাপ দেন। কিন্তু খায়রুন্নেছা তার বাবাবাড়ি থেকে টাকা আনতে অস্বীকার করায়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি খায়রুন্নেছার অনুমতি না নিয়েই অন্য এক জনের স্ত্রীকে বিয়ে করেন আমজাদ। প্রতিবাদ করলে ৪ লাখ টাকা যৌতুক না আনায় প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত জানান স্বামী আমজাদ। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমজাদ লাঠি ও গরম পানি গায়ে ঢেলে এলোপাতাড়ি তাকে পেটাতে থাকেন। পরে খায়রুন্নেছাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রথম স্ত্রী খায়রুনেছা বলেন, যৌতুক না দেয়ায় বিভিন্ন সময় আমজাদ আমাকে মারধর করতো। এবং এর আগেও বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে অবৈধ ভাবে মেলা মেশা করায় এলাকায় কয়েক বার বিচার করেছে এলাকার ব্যক্তিবর্গ গন, এখন অন্য এক জনের স্ত্রীকে বিয়ে করেছে। আমাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলেছিল। এর প্রতিবাদ করায় শারীরিক নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আমজাদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার ওসি বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে দু-পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *