রাজধানীবাসীর চাহিদা মেটাচ্ছে যশলদিয়া পানি শোধনাগার

রাজধানীবাসীর চাহিদা মেটাচ্ছে যশলদিয়া পানি শোধনাগার

তাজা খবর:

পদ্মার পানি পরিশোধনের পর প্রায় ৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এসে রাজধানীবাসীর পিপাসা মেটাচ্ছে। আর এই পরিশোধনের কাজটি হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার যশলদিয়ায় গড়ে তোলা পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্প। এই প্রকল্প থেকে রাজধানীতে প্রতিদিন পানি আসে সাড়ে ২২ কোটি লিটার।

পদ্মার তীরে গড়ে তোলা এই শোধনাগারে ঘোলা পানি কাদা ও জীবাণুমুক্তকরণসহ কয়েকটি ধাপে পরিশোধন করে পাঠানো হয় ঢাকায়। রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইনে যুক্ত হয়ে এই পানি পৌঁছে যাচ্ছে পুরান ঢাকা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে।

ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার যশলদিয়ায় পানি শোধনাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চীন সরকারের ৩ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তায় ১০৪ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় পদ্মা যশলদিয়া পানি শোধনাগার। দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি সরবরাহ করা সম্ভব এ প্রকল্প থেকে। বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে ২২ কোটি লিটার পানি পরিশোধন করে রাজধানীতে আনছে ঢাকা ওয়াসা।

জানা গেছে, দেড় কোটির বেশি মানুষের এই রাজধানীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ২৪০ থেকে ২৫০ কোটি লিটার। এই পানির চাহিদা পূরণে ভূগর্ভস্থ পানির পাশাপাশি শোধনাগারের মাধ্যমে নদীর পানি পরিশোধন করে তা ব্যবহার উপযোগী করে সরবরাহ করছে ঢাকা ওয়াসা।

ঢাকা ওয়াসার দেয়া তথ্য মতে, রাজধানীর বাবুবাজার, চকবাজার, লালবাগ, বংশাল, তাঁতীবাজার, নবাবপুর, নর্থসাউথ রোড ও ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দারা পরিশোধিত এই পানি পাচ্ছে। পঞ্চাশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যশলদিয়া থেকে যুক্ত হচ্ছে রাজধানীর পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কে। ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহে বর্তমানে ১৩ শতাংশের যোগান দিচ্ছে যশলদিয়া পানি শোধনাগার।

যশলদিয়া প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা নদীর সঙ্গে একটি খাল কেটে পাঁচটি পাম্পের মাধ্যমে এ পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে। পানি পাম্পের মাধ্যমে প্রকল্পে এনে ক্লোরিন মিশিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। এরপর পানি থেকে কাঁদা আলাদা করে সেখান থেকে ফ্লিটারের মাধ্যমে কয়েক স্তরে পানি পরিশোধন করে ব্যবহার উপযোগী করে ওয়াসা পাইপলাইনে তা সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ কোটি লিটার পানি পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে এ প্রকল্পটির। কিন্তু প্রকল্প সক্ষমতার পরিমাণ পানি রাজধানীতে সরবরাহ করার সুযোগ আপাতত নেই। কারণ পরিশোধিত পানি যে গতিতে ঢাকায় যাবে, তাতে ঢাকার অনেক পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছ। অনেক ক্ষেত্রে অনেক বাড়িও ধসে পড়তে পারে। তাই আমরা বর্তমানে পরিশোধন ক্ষমতার অর্ধেক পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছি।

তিনি জানান, প্রকল্পে নদী থেকে পানি নিতে পাঁচটি পাম্প থাকলেও প্রতিদিন দুটি করে পাম্প চালানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে পাঁচটি পাম্পই বদল করে করে চালানো হচ্ছে। তবে প্রতিদিন দুইটির বেশি পাম্প চালানো হচ্ছে না।

ওয়াহিদুল ইসলাম মুরাদ জানান, পাম্প চালু করা, বন্ধ করা, ত্রুটি শনাক্ত, সমাধান- সবই একটি কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এছাড়া প্রকল্প কাজে নিয়োজিত কর্মী কে, কখন, কোথায় অবস্থান করছে তাও কন্ট্রোলরুম থেকে তদারক করা হচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান বলেন, আমরা যশলদিয়া পানি শোধনাগারের পানি সরবরাহে ১৪৫টি ডিসট্রিক মিটার এরিয়ায় (ডিএমএ) ঢাকা শহরকে ভাগ করে নতুন পাইপলাইন তৈরির কাজ করছি। এই পাইপলাইন তৈরির কাজ শেষ হলে যশলদিয়া প্রকল্পের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদিন ৪৫ কোটি লিটার পানি পরিশোধন করে তা ঢাকার গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া যাবে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে আমরা ঢাকাবাসীর পানির চাহিদা এবং সরবরাহের সমতা এনেছি। বর্তমানে ৩৩ থেকে ৩৪ শতাংশ পরিশোধিত পানি এবং বাকিটা ভূগর্ভস্থ পানি ঢাকা ওয়াসা সরবরাহ করছে। এটিকে ৭০ শতাংশ পরিশোধিত পানি এবং ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যেতে আমরা কাজ করছি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *