রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার রেলপথ

রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার রেলপথ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজধানীর অসহনীয় যানজট নিরসনে মেট্রোরেল নির্মাণের পাশাপাশি বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদিত হয় ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর। গত বছরের মে মাসে পরামর্শক নিয়োগের ইওআই আহ্বান করা হয়। প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। চলতি বছর ৩০ এপ্রিলে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয় চায়না রেলওয়ের সিওয়ান সার্বে অ্যান্ড ডিজাইন গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২৫ শতাংশ।

এটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উত্তরা, গাবতলী, টঙ্গী, বিরুলিয়া, সদরঘাট, বাবুবাজার, শ্যামপুর, ফতুল্লা, পূর্বাচল প্রভৃতি এলাকার বৃহৎ জনগোষ্ঠী রাজধানীর গন্তব্যস্থলে দ্রুত যেতে পারবে। পাশাপাশি অসহনীয় যানজট এড়িয়ে নিজ গৃহে ফিরতে পারবেন দ্রুত। এতে সময় সাশ্রয় হবে।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘রাজধানী ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ১৯ শতাংশ। এ প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের কাজ চলমান। এর সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এটি ঢাকার যানজট নিরসনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’

রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির নথিপত্র থেকে জানা গেছে, জাপান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এ রেলপথটি নির্মাণ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন। রেলপথ নির্মাণ ছাড়াও ডিপো নির্মাণ, রোলিং স্টক ও কোচ ক্রয় বাবদ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে গত এপ্রিলে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর আওতায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করেছে। এখন এ প্রকল্পের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক সহায়তায় পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে সরকার। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপির আওতায় নির্মাণ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানী ঢাকায় প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বসবাস করে। প্রতি বছর শহরের আয়তন যেমন বাড়ছে, তেমনি জনসংখ্যা বাড়ছে। সেই তুলনায় পরিবহন সুবিধা খুবই কম। অসহনীয় যানজট মোকাবেলা করতে হয়। প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা। মানুষ কর্মশক্তি হারিয়ে ফেলছে। ঘনবসতিপূর্ণ শহর হলেও এখানে দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা কিংবা যুগোপযোগী কোনো ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় সরকার ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ‘ঢাকা সমন্বিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ’ অর্থাৎ, ইস্টার্ন বাইপাসের অ্যালাইনমেন্ট ব্যবহার করে সংশোধিত পরিবহন কৌশল পরিকল্পনা (আরএসটিপি) অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ইনার সার্কুলার রোডের ওপর দিয়ে বৃত্তাকার এলিভেটেড রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ হলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা আরও দক্ষ ও উন্নত হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *