‘রাজার চিঠি’ নাটকের ৬টি আর্ন্তজাতিক নাট্যোৎসবে অংশগ্রহন 

‘রাজার চিঠি’ নাটকের ৬টি আর্ন্তজাতিক নাট্যোৎসবে অংশগ্রহন

তাজা খবর:

জাগরনী থিয়েটার ৬টি আর্ন্তজাতিক নাট্যোৎসবে অংশগ্রহনের জন্য আগামীকাল ভারতের উদ্দেশ্যে ১৩ জনের সফরকারী দল: দেবাশীষ ঘোষ, স্মরণ সাহা, শাহানা জাহান সিদ্দিকা, মো: বাহারুল ইসলাম, মোহানী মানিক, শাহানাজ শারমিন খান সিমু, রুকুনুজ্জামান আপেল, জুলিয়েট সুপ্রিয়া সরকার, মো: রফিকুল ইসলাম, রিপা হালদার, পল্লব সরকার, আবেদা আক্তার তৃপ্তি, এবং ইমন হোসেন নিয়ে রওনা হচ্ছে। নাটকটি রচনা মাহফুজা হিলালী আর নির্দেশনা প্রদান করেন দেবাশীষ ঘোষ। আগামী ১৫ নভেম্বর জাগরনী থিয়েটার দেশে ফিরবে।

‘রাজার চিঠি’ ২৬ থেকে ৩১তম ৬ টি প্রদর্শনী ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হবে।

“রাজার চিঠি” নাটকের ভারত সফরের প্রদর্শনী সমুহ :

১. ০৫ নভেম্বর ২০১৯ দীনবন্ধু মঞ্চ, শিলিগুড়ি, সময় সন্ধ্যা ৬.০০ আয়োজনে: প্যাসোনেট পারফর্মাস।

২. ০৮ নভেম্বর ২০১৯ বরপেটা জেলা লাইব্রেরী মিলনায়তন- বরপেটা, আসাম, সময় সন্ধ্যা ৬.০০ আয়োজনে: রংঘর।

৩. ০৯ নভেম্বর ২০১৯ শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্র- গুয়াহাটী, আসাম, সময় সন্ধ্যা ৬.০০ আয়োজনে: রেপ্লিকা।

৪. ১১ নভেম্বর ২০১৯ যোরহাট থিয়েটার মিলনায়তন- যোরহাট, আসাম, সময় সন্ধ্যা ৬.০০ আয়োজনে: রেপ্লিকা।

৫. ১২ নভেম্বর ২০১৯ ডিব্রুগড় জেলা লাইব্রেরী মিলনায়তন– ডিব্রুগড়, আসাম, সময় সন্ধ্যা ৬.০০ আয়োজনে: আখরা ঘর।

৬. ১৪ নভেম্বর ২০১৯ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন- আগরতলা, ত্রিপুরা, সময় সন্ধ্যা ৬.৩০ আয়োজনে: রাঙ্গামাটি নাট্যক্ষেত্র।

কাহিনি সংক্ষেপ: ১৯৩৯ সালে শাহজাদপুরের শ্রী হরিদাস বসাকের একটি চিঠির উত্তরে চিঠি লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই চিঠি এবং রবীন্দ্রসাহিত্যের প্রভাবে হরিদাস বসাকের জীবন রবীন্দ্রনাথের ‘ঠাকুরদা’ চরিত্রের মতো হয়ে ওঠে। এই কাহিনি নিয়েই ‘রাজার চিঠি’ নাটকটি লেখা। এক সময় যুবক হরিদাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। এ নিয়ে তার পরিবার-পরিজন এবং বন্ধুবান্ধব হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু দেখা যায়, একদিন রবীন্দ্রনাথ সে চিঠির উত্তর দিয়েছেন। এ সময় হরিদাস বসাককে সবাই সমীহ করতে শুরু করে। অন্যদিকে হরিদাস বসাকও সাহিত্যসংস্কৃতির কাজে নিজেকে সঁপে দেন। সময়ের প্রবাহে আসে ১৯৪৭ সাল। এ সময় অনেকেই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। কিন্তু যে ঠিকানায় রবীন্দ্রনাথ তাকে চিঠি লিখেছেন, সে ঠিকানা হরিদাস বসাক বদল করতে চান না। নাটকে ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের চিত্র এবং হরিদাস বসাকের মাতৃভূমি আঁকড়ে থাকা দেখা যায়। এরপর আসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতায় হরিদাস বসাকের স্বপ্নভঙ্গ হয়। পুড়িয়ে ফেলা বাড়ি ঘর দুয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে হরিদাস বসাক সে দিন তাঁর আত্মজনের খোঁজ নেন না, শুধু শিশুর মতো হাহাকার করেন চিঠিটির জন্য। এ অবস্থায় পাকিস্তানি আর্মি এসে দাঁড়ায় হরিদাস বসাকের সামনে। তার মুখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম শুনে আর্মিরা তাকে বেয়োনেট দিয়ে মারতে থাকে। কাহিনি এখানেই শেষ হয়েছে, কিন্তু এর বিস্তৃতি বহু দূর পর্যন্ত প্রসারিত।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *