রোজায় আসছে ২৫ হাজার টন ভোজ্য তেল

রোজায় আসছে ২৫ হাজার টন ভোজ্য তেল

তাজা খবর:

আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২৫ হাজার টন ভোজ্য তেল বিপণনের প্রস্তুতি নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ ছাড়া বরাবরের মতোই সুলভ মূল্যে ডাল, ছোলা, খেজুর, চিনিসহ আরো বেশ কিছু পণ্য বিপণন করবে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থাটি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘রমজানের সময় বাজারে যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে সমস্যায় পড়তে না হয় সে জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। টিসিবির মাধ্যমে আমরা ২৫ হাজার টন ভোজ্য তেল আমদানি করতে যাচ্ছি। উদ্দেশ্য, অত্যাবশ্যকীয় পণ্যটি যাতে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়। সব রকম ব্যবস্থাই আমরা নিয়েছি। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার দেশেও ভোজ্য তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।’

সরকার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ দাম ১১৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা লিটার। এই সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে এবার সময়ের আগেই টিসিবির মাধ্যমে ভোজ্য তেল সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে বাজার পরিস্থিতির কারণে এবার টিসিবির তেলের দামও গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

রোমজানে জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্রেতাদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই দাম বাড়ায়, এটা ঠিক। তবে এর বাইরেও প্যানিক বায়িং বলে একটা কথা রয়েছে। এই প্রবণতার কারণেও দাম বাড়ে। আমাদের বাড়ির বউরা রোজা শুরুর আগেই বলে—দাম বেড়ে যাবে। তাই রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিছু কিনে রাখো। এতে আমরা সবাই রোজা শুরুর আগেই একসঙ্গে বাজারে ঢুকে পড়ি। তাহলে বিক্রেতারা তো সুযোগ নেবেই। আর আমরাই সে সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি। সুতরাং পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে দুই পক্ষের কিছু না কিছু সংযোগ রয়েছে। ভীত হয়ে কেনাকাটা না করে কেনাটা স্বাভাবিক রাখা উচিত।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকটি আইটেম নিয়ে আমাদের সমস্যা। যেমন—তেল, পেঁয়াজ। দেশেই চাহিদার ৭৫ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। বাকি ২৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। তবে পেঁয়াজের জন্য ভারতের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করাটা আমাদের ঠিক হবে না। বিকল্প বাজার থেকে ব্যবস্থা করতে হবে। মিয়ানমার থেকে রিজনেবল প্রাইসে আনা যেতে পারে। ছোলা, খেজুর, ডাল টিসিবির মাধ্যমে এবার দ্বিগুণ আমদানি করা হচ্ছে। সব কিছু বুক করা হয়েছে। আশা করছি সব কিছু এসে যাবে। রমজানের সময় আমাদের সমস্যা যেন না হয় তার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *