লকডাউনে থেমে নেই মেগা প্রকল্পগুলো

লকডাউনে থেমে নেই মেগা প্রকল্পগুলো

তাজা খবর:

করোনা সংক্রমণ কমানোর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে চলছে। এসব নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে কিছু বলা ছিল না মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দেওয়া নির্দেশনায়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এ তথ্য।

প্রকল্প পরিচালকরা বলেছেন, করোনার কারণে গতবছরের শুরুতে দেওয়া লকডাউনে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজের গতি কমলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। কাজ চলছে। তবে এসব প্রকল্পে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গেছে, গতবছরের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং টাস্কফোর্সের সভায় প্রকল্পগুলোর কাজের গতি স্বাভাবিক রাখার যে নির্দেশনা ছিল তা এখনও বহাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এসব প্রকল্প মনিটরিং করছেন। সরকার চায় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হোক।

গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু থেকে ঘুমধুম সীমান্ত পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই প্রকল্পের কাজ চলছে। শ্রমিকরাও সব নিয়ম অনুসরণ করছেন।

জানা গেছে, পদ্মা সেতুর স্প্যানে সড়কপথের কাজ শরিয়তপুরের জাজিরা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে মাওয়ার দিকে এগুচ্ছে। সার্বিক অগ্রগতি ৯০ শতাংশেরও বেশি।

দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, ২০১০ সালে শুরু হয়েছে এ প্রকল্পের কাজ। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে। বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, এ প্রকল্পের শ্রমিকসহ সকল কর্মী আগে থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি শুরু হয়েছে ২০১৪ সালে। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও থেমে নেই। প্রকল্পটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শৌকত আকবর জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের জুলাইতে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শেষ করার সময় ঠিক করা হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প এগিয়ে চলছে দ্রুত। গতবছরের করোনার সময় এ প্রকল্পের কাজ কিছুটা বাধার মুখে পড়লেও এবার বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ফখরুদ্দিন এ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, পুরো প্রকল্প এলাকা স্বাস্থ্যবিধির আওতায় এসেছে।

এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। ২০২৪ সালের জুনে শেষ হবে বলে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সেতু উদ্বোধনের দিন এতে রেলও চলবে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তা এন এম সিদ্দিক জানিয়েছেন, কিছু অস্থায়ী শ্রমিক এ সময় বাড়ি গেছেন বলে ২/১টি পয়েন্টে কাজের গতি আজ (৫ এপ্রিল) সামান্য ধীর ছিল। তবে কাল-পরশু নাগাদ পুরোদমে চলবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। কাজ শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের জুনে। শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে।

পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্পও চলমান বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর হুমায়ুন কল্লোল। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, গতবছর করোনায় কাজের গতি অনেকটাই কমেছিল। এবার কিন্তু কমেনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব প্রকল্পের কাজ চলছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়েই এসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *