শনাক্তের হার পাঁচের নিচে, নিয়ন্ত্রণের পথে দ্বিতীয় ঢেউ

শনাক্তের হার পাঁচের নিচে, নিয়ন্ত্রণের পথে দ্বিতীয় ঢেউ

তাজা খবর:

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কমেছে শনাক্তের হার; নেমে এসেছে পাঁচ শতাংশের নিচে, ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত এক দিনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১ হাজার ৫৬২ জনের দেহে।

দেশে এ পর্যন্ত করোনার শনাক্ত ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ২৭৭ জনের।

এর চেয়ে কম শনাক্তের হার ছিল গত ৭ মার্চ। ওই দিন ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শনাক্তের খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা হয়।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। সেই বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। এই পরিস্থিতি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে সংক্রমণ হার আবার বাড়তে থাকে। মার্চে ৫ শতাংশের ওপরে যায় শনাক্তের হার। ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ছাড়ায় ৩০ শতাংশ।

এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন এবং জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট প্রত্যাহার করা হয় এসব বিধিনিষেধ। এর মাস পাঁচেক পর সংক্রমণ পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের পথে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১০টি ল্যাবে ৩৩ হাজার ৩২৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। সোমবার এই হার ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা মার্চের পর সর্বনিম্ন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৬, নারী ১০ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

মৃতদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, ত্রিশোর্ধ্ব ২, চল্লিশোর্ধ্ব ৩, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৫, ষাটোর্ধ্ব ৮, সত্তরোর্ধ্ব ৫ ও অশীতিপর ২ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৩ জন, রাজশাহী ৩, খুলনাতে ২, সিলেটে ২, ও ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬০৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৪ হাজার ৭০৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

সংক্রমণ পরিস্থিতি উন্নতির বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার ক্ষেত্রে আমরা দেখছি সংক্রমণের ধারাটা নিম্নগামী। করোনা যা পরীক্ষা হচ্ছে, গেল এক সপ্তাহ ধরে শনাক্তের হার ৫ থেকে ৬ শতাংশের ঘরে।

‘তবে এখনই আমরা বলতে পারব না, এটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এটা যদি তিন সপ্তাহ পর্যন্ত একইভাবে চলে, তাহলে আমরা বলতে পারি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।’

আশঙ্কা প্রকাশ করে লেনিন বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আবার সংক্রমণ বাড়ছে। আমাদের এখনও দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমরা মনে করছি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিয়ন্ত্রণে আসার চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরে আবার কিন্তু নতুন ঢেউ আসার আশঙ্কা থাকে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *