‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ পরিদর্শনে গিনেস বুকের প্রতিনিধিদল

‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ পরিদর্শনে গিনেস বুকের প্রতিনিধিদল

তাজা খবর:

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ১০০ বিঘা আয়তনের ধানখেতে ফুটিয়ে তোলা ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ পরিদর্শন করেছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধিদল। আজ মঙ্গলবার পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানিয়েছেন, শস্যখেতের বিশাল ‘ক্যানভাসে’ ফুটিয়ে তোলা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নান্দনিক প্রতিকৃতিটি বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি মিলবে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য হলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহাম্মদ এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক এমদাদুল হক চৌধুরী। তাঁরা মঙ্গলবার বগুড়ার শেরপুরে আমিনপুর মাঠে প্রতিকৃতি স্থল পরিদর্শন শেষে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বর্তমানে চীনের ৭০ বিঘার শস্যচিত্রের রেকর্ড ভাঙার ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, তাঁরা পরিদর্শনের সময় কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দেন। এর মধ্যে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বা ক্রপ ফিল্ড মোজাইকে কী পরিমাণ কাজ হয়েছে, সেটি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ ছাড়া গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাতে দুই রঙের শস্য দিয়ে প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলতে হয়। আমিনপুর মাঠে সবুজ ও বেগুনি রঙের শস্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গিনেস বুকে নাম লেখাতে শস্যের রং অবশ্যই প্রাকতিক হতে হয়, আমিনপুর মাঠের দুই ধরনের শস্যের রংই প্রাকৃতিক পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে সব কটি শর্তই এখানে পরিপূর্ণভাবে মানা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে যা যা দরকার, সবই আছে এখানে।

প্রতিনিধিদলের প্রধান অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে ফুটিয়ে তেলা হয়েছে, স্কেচে তৈরি বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে শতভাগ মিল রয়েছে। স্কেচে ব্যবহৃত রঙের সঙ্গেও শতভাগ মিল রয়েছে। শস্যের ভ্যারাইটিও রয়েছে নির্দিষ্ট স্থানে সুনির্দিষ্টভাবে। ড্রোন থেকে তোলা ছবিও শতভাগ ঠিক আছে।’ তিনি বলেন, শস্যচিত্রে মূল ইমেজ ৬০ ভাগ আছে কি না, সেই মাপঝোখ করতে শেরপুর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার দল কাজ করছে। তারা সঠিক মাপজোখের প্রতিবেদন দিলে দু–তিন দিনের মধ্যে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেতে পারে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ ফুটিয়ে তুলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর উদ্যোগটি ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের’। এই পরিষদের আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি পরিদর্শনে আসেন।

‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের’ আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন

এ সময় বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ একটি ভিন্ন ধারার, ভিন্ন মাত্রার অনন্যসাধারণ, নান্দনিক একটি কাজ। এর মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্বজুড়ে অনন্য সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এটি হবে সবচেয়ে দুর্দান্ত, সবচেয়ে নান্দনিক এবং সবচেয়ে বড় কাজ।

বাহাউদ্দিন নাছিম আরও বলেন, ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, বাঙালি বিশ্বাসঘাতক ও অকৃতজ্ঞ নয়। বঙ্গবন্ধু শুধু কৃষক ও বাঙালির নেতা নন, জাতির পিতা। সেটা গিনেসের রেকর্ড গড়ে ইতিহাস গড়তে চাই। বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর কাছে জাগ্রত করতে চাই।’

শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের সদস্যসচিব এবং ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্রপ মোজাইক ফিল্ড ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ইতিমধ্যেই ব্রিটেন, জাপান, ভারতের রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে চীন অবস্থান করে নিয়েছে। তবে কোনো দেশই শস্যচিত্রে জাতির জনককে তুলে ধরতে পারেনি। গিনেস বুকে নাম লেখানোর মাধ্যমে অনন্য ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।

এ সময় অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক, বগুড়া-৫ আসনের সাংসদ হাবিবর রহমান, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *