শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ

শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ

দেবাশীষ ঘোষ জয়, স্টাফ রিপোটার:

শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ মানিকগঞ্জের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলায় কয়েকবার সুনাম অর্জন করেছে । অথচ এর পিছনে রয়েছে আরেক গল্প যা লোকচক্ষুর আড়ালে । শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব কুমার দে শিকদারের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ । গত ৩০/০৬/১৯ , ২৭/০৬/১৯ ও ৪/০৮/০৮/১৯ ইং তারিখে তার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি জনাব এস এম ফেরদৌস মহোদয়ের নিকট পর পর কয়েকটি অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। উক্ত অভিযোগ গুলোতে কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব কুমার দে শিকদারের বিরুদ্ধে মন্তাজ নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা আত্মসাত সহ নানা দুর্নিতির ব্যাখা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন জেলা প্রশাসক ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি জনাব এস এম ফেরদৌস মহোদয়ের নিকট । এছাড়াও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে যেমন কলেজের গাছকেটে কাঠ দিয়ে ব্রেঞ্চ তৈরি করে অথচ সেই ব্রেঞ্চ এর জন্য সরকারের অনুদানও গ্রহন করে, ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কলেজ ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ ,যে সকল ভুয়া বিল ভাউচার দেখানো হয়েছে তার কোনোটাতেই গভর্নি বডির সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ করেন মন্তাজ নামের স্থানীয় বাসিন্দা ।

শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রুহুল আমিন মিঠ’ অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ বাসুদেব কুমার দে শিকদারের বিরুদ্ধে , যে তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাবার পরও প্রভাষক পদের জন্য বেতন উত্তোলন করেন যা সরকারী টাকা আত্মসাতের সামিল, রুহুল আমিন মিঠ’ আরো জানান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম খানের অনুদানে নির্মিত ভবন যার নাম করন আলহাজআব্দুর রহিম খান নামে হয় কিন্তু এই ভবন দেখিয়ে কলেজ তহবিল থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাত করেন ।
তিনি আরো অভিযোগ করেন সাবেক মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক জনাব গোলাম নবী সাহেবের অনুদানে কলেজ ক্যাম্পাসে একটি তিনতলা ভিত্তি সম্পন্ন টিনসেড ভবন নির্মান করেন যার তিনতলা কারার জন্য ভিত্তি ,দেয়াল,কলাম সবই শেষ করা হয়েছিলো শুধুমাত্র ছাদ না দিয়ে টিনের চাল দেয়া হয় এবং তার নাম অনুসারে ভবনের দেয়ালে “ গোলাম নবী ভবন ” এর একটি নামফলক স্থাপন করা হয় । যা পরবর্তীতে কলেজের অর্থায়নে তিনতলা ভবনে রুপান্তরিত করা হয় এবং এর সম্পূর্ন ব্যায় দেখানো হয় কলেজ তহবিলের থেকে এই ব্যায় বৈধ দেখানোর জন্য “ গোলাম নবী ভবন ” ভবনের নাম করন মুছে ফেলা হয় ।

উলেক্ষ যে গত ২৯/০৬/১৭ ইং তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কুটুক্তি করা অপরাধে কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব কুমার দে শিকদারের বিরুদ্ধে কলেজের ছাত্র রবিউস সানি একটি মামলা দায়ের করেন যার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিনি আইনি লড়াই করে আবার ৩০/১২/১৭ তারিখে সপদে বহাল হন ।
স্টাফ রিপোটার দেবাশীষ ঘোষ জয় কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব কুমার দে শিকদারের সাথে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তিনি অসুস্থ বলে তাকে তিনদিন পর যেতে অনুরোধ করেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *