শেখ হাসিনা প্রশাসন ও অন্য উচ্চ পদে নারীদের পদায়ন করেছেন

শেখ হাসিনা প্রশাসন ও অন্য উচ্চ পদে নারীদের পদায়ন করেছেন

তাজা খবর:

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনিক এবং অন্যান্য উচ্চ পদে নারীদের পদায়ন করেছেন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাতিসংঘের ‘কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অব উইমেন’-এর ৬৫তম সেশনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের আয়োজনে এই সভা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আমাদের দেশের নারীরা অবহেলিত। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীরা রয়েছেন। বাংলাদেশে যারা বড় রাজনীতিবিদ বলে দাবি করেন তাদের দলে কিন্তু নারীদের এ ধরনের অবস্থান নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের নারীরা আজ এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা সর্বপ্রথম এদেশে প্রশাসনিক এবং অন্যান্য উচ্চপদে নারীদের পদায়ন করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নারীদের উচ্চপদে পদায়ন করেছেন। বর্তমানে আদালতে ১৮৪৫ বিচারক আছেন তার মধ্যে নারী ৫৪৪। বাংলাদেশের মেজর জেনারেল নারী, আগে কখনও নারী এসপি ছিল না, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসে নারী এসপি নিয়োগ দিয়েছেন। দেশে ১৫ হাজার নারী পুলিশ রয়েছে, তার মধ্যে অনেকেই পুলিশ কর্মকর্তা। বর্তমান নারী ইউএনও’র সংখ্যা ১৩৪।

বাংলাদেশ আজ নারীর ক্ষমতায়নে উন্নয়নশীল বিশ্বের রোল মডেল বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নারী পুনর্বাসন বোর্ড গঠনের মাধ্যমে নারী উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নারী-পুরুষ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সুসংহতকরণে গৃহীত কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।

তিনি বলেন, গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ প্রতিবেদন ২০২০ অনুযায়ী ১৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫০তম। ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১-এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ক্রমান্বয়ে একটি মধ্যম এবং উচ্চআয়ের দেশে পরিণত করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সকল আন্তর্জাতিক ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা সকলেই এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বাস্তবায়নে কাজ করছি। এক্ষেত্রে ৫ নং গোল সরাসরি নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে নিরোধ, নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, সমসুযোগ, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সায়েদুল ইসলাম নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুরক্ষা প্রদান এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়নের মূলস্রোত ধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের উদ্যোগে আগামী ১৫-২৬ মার্চ ২০২১ সময়ে ‘কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অব উইমেন’-এর ৬৫তম সেশন অনুষ্ঠিত হবে। মহামারীর কারণে এ বছর সেশনটি ভার্চুয়ালি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *