এগিয়ে যেতে হবে

ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে

তাজা খবর:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনে আমরা জানি অনেক বাধা-বিপত্তি ছিল। চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র ছিল। কোনোমতে নির্বাচন যেন না হয়, না হতে পারে-এটা ছিল আসল চক্রান্ত। অথচ একটা গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া, কোনো রাজনীতিবিদ যদি ক্ষমতায় না থাকে, কোনো দেশের উন্নতি হয় না। যেটা আমাদের দেশের জন্য প্রমাণিত সত্য। তিনি বলেন, আপনারা জানেন ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত কখনো শেষ হয় না। কাজেই এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই শক্ত একটি ঘাঁটি আছে বলেই আমি সব ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে পারি-সেই শক্তি আপনারা আমাকে দিয়েছেন। টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়াবাসী আমার বড় শক্তি। বাংলাদেশের জনগণ আমার শক্তি।

রোববার বিকালে নিজ নির্বাচনি এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কোটালীপাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে জীবন্ত পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করতে না পারে, সেজন্য জ্বালাও-পোড়াওকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। এর হুকুমদাতাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা এখন আন্দোলন করে গণতন্ত্রের জন্য, যারা গণতন্ত্রের গও বোঝে না। তাদের আন্দোলন কি মানুষ পুড়িয়ে মারা। গণতন্ত্রের গ কেন গণতন্ত্র বানানও করতে পারবে না। তারা জানে জ্বালাও-পোড়াও। জীবন্ত মানুষগুলোকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’১৩ সালে যা করেছে, ১৪ সালে করেছে, ১৫ সালেও করেছে। আবার এই নির্বাচন ঠেকাও আন্দোলন করতে গিয়ে ট্রেনে আগুন দিয়ে এমনভাবে পুড়িয়েছে-মা সন্তানকে বুকে নিয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। এই দৃশ্য কোনো মানুষ সহ্য করতে পারে না। যে কারণে তারা যতই চিৎকার করুক, চেঁচামেচি করুক জনগণ তাতে সাড়া দেয়নি। যারা এই ধরনের জঘন্য কাজ করেছে তাদের কোনো ছাড় নেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি, নেব।

তিনি বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। সবার হাতে মোবাইল ফোন। সব জায়গায় আমাদের সিসি ক্যামেরা আছে। যারা এ ধরনের কাজ করেছে তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা জ্বালও-পোড়াও করার জন্য হুকুম দিয়েছে তাদেরও আমরা গ্রেফতার করছি। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে আর যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে না পারে। সেটাই আমরা চাই।

টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়াবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে এজন্য যে, আমাদের অন্য এমপিরা যার যার নিজের এলাকা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু আমার আসলে বলতে গেলে বাংলাদেশের ৩শটি সিট। ৩শ সিটেরই দায়িত্ব আমার। সারা বাংলাদেশেরও উন্নয়নের দায়িত্ব আমার। সেজন্য আমি আপনাদের কাছে এসে নির্বাচন করতে পারি না। কৃতজ্ঞ এ কারণে সব দায়ভারটা আপনারাই নেন। আপনারা আমাকে সেই বাবা-মা-ভাই হারানোর স্নেহ-ভালোবাসা দিয়েছেন। যার ফলে আমি নিশ্চিন্ত মনে কাজ করতে পারছি।

ওয়ান-ইলেভেন নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ইমার্জেন্সি হয় কারণ বিএনপির দুঃশাসন, দুর্নীতি ও লুটপাট, মানি লন্ডারিং, গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা নানা কারণে জনগণ তাদের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। যার জন্য ইমার্জেন্সি আসে।

মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষ, একেবারে তৃণমূলের মানুষ যাতে বাঁচতে পারে, চলতে পারে এবং ভালোভাবে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে। আমাদের তরুণ সমাজের যেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়, আমাদের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ এমনকি যারা অনগ্রসর গোষ্ঠী যেমন-হিজড়া, বেদে এ ধরনের যারা প্রত্যেকের জন্য আমি কাজ করেছি।

সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধি শহিদ উল্লা খন্দকার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম সাহাব উদ্দিন আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, কোটালীপাড়া পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান হাজরা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিকাল ৩টায় টুঙ্গিপাড়ার বাসভবন থেকে কোটালীপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকাল সাড়ে ৩টায় কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভা করেন। পরে বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বেলা ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাসভবনে জেলার সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদের উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ দেন। সড়ক ও জনপথের উন্নয়নসহ প্রত্যেকটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন। কেউ দায়িত্ব অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম প্রধানমন্ত্রীকে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকাণ্ডের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।

ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আল বেলী আফিফা আলোচনায় অংশ নেন।

শনিবার দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ নির্বাচনি এলাকা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আসেন টানা চতুর্থবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *