সংগ্রহে থাকা বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবি প্রদর্শন করবে পুলিশ

সংগ্রহে থাকা বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবি প্রদর্শন করবে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক:

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি পালিত হয় প্রথম পুলিশ সপ্তাহ। তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এএইচ নুরুল ইসলামের আমন্ত্রণে বর্ণাঢ্য ওই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে তিনি দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে, যা আজও তাদের জন্য অনুসরণীয়।

নিজেদের সংগ্রহে থাকা বঙ্গবন্ধুর সেদিনের ছবি ও ভাষণের প্রামাণ্যচিত্র দিয়ে পাণ্ডুলিপি ও ডকুমেন্টারি তৈরি করছে পুলিশ, যা মুজিব শতবর্ষে দেখানো হবে। রাজারবাগ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যেসব থানা ও পুলিশ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছিলেন, সেসব দুর্লভ স্মৃতিও স্থান পেয়েছে ওই পাণ্ডুলিপি ও ডকুমেন্টারিতে।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ১০ জানুয়ারি থেকে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন জাতির পিতার এক জন্মদিন থেকে আরেক জন্মদিন পর্যন্ত বছরটি উদযাপিত হবে মুজিব বর্ষ হিসেবে।
বিশেষ এই বর্ষে নিজেদের সংগ্রহে থাকা বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ কিছু ছবি ও নোট প্রদর্শন করবে পুলিশ। পাশাপাশি বিশেষ এই বর্ষে জরুরি সেবায় পুলিশের রেসপন্স (সাড়া প্রদান) টাইম কমিয়ে আনা হবে। এছাড়া শিশু, বয়স্ক এবং নারী ও প্রতিবন্ধীদের বাড়তি সুবিধা দিতে চালু করা হবে হেল্প ডেস্ক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ ও যুদ্ধপরবর্তী সময়ে বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি বা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে দেয়া ইন্সপেকশন নোট সংগ্রহ করে তা পাণ্ডুলিপি ও ডকুমেন্টারি আকারে প্রকাশ করবে পুলিশ বাহিনী।
পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সাহচর্যে ছিলেন এমন পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে তার স্মৃতি সংগ্রহ করে স্মৃতিচারণমূলক প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে তা মুজিব বর্ষে প্রদর্শন করা হবে।

পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময় ১৯৭১ সাল। মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন ডিআইজি, বেশ কয়েকজন এসপিসহ প্রায় সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্য শাহাদত বরণ করেন। ১ হাজার ২৬২ জন শহীদ পুলিশ সদস্যের তালিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মুক্তিযুদ্ধ পুলিশ বাহিনীর ট্র্যাডিশনাল চরিত্রে বিরাট পরিবর্তন এনেছে। শুধু আইন পালন আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয়, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত এক দশকে জঙ্গিবাদ দমন ও নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষে অন্যান্য বাহিনী ও সংস্থার মতো পুলিশের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে বেশকিছু পরিকল্পনা। এর মধ্যে প্রথম পুলিশ সপ্তাহে অংশ নেয়া বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবি ও ভিডিও চিত্র দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে পাণ্ডুলিপি ও ডকুমেন্টারি। এতে পুলিশের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ আরো কিছু ছবি ও ভিডিও চিত্র স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৪ সালের ৪ জুলাই কুমিল্লা পুলিশ লাইনসে বঙ্গবন্ধুকে দেয়া সংবর্ধনা এবং ১৯৭২ সালের ৯ মে সারদা পুলিশ একাডেমিতে পাসিং আউটে তার উপস্থিতির ছবি।

পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বণিক বার্তাকে বলেন,
মুজিব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে পুলিশ বাহিনী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মুজিব বর্ষের অন্যান্য কর্মসূচি ছাড়াও দেশের প্রতিটি থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটে পালন করা হবে ‘পুলিশ সেবা সপ্তাহ’।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯কে আরো আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলা হবে, যাতে জনগণ স্বল্পতম সময়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে পারে। এছাড়া নারী ও শিশুর সুরক্ষার জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ অ্যাপ।

তিনি বলেন, ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’—এ স্লোগানকে ধারণ করে দেশের প্রতিটি থানাকে জনবান্ধব করে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যাতে থানা থেকে সেবা নিয়ে হাসিমুখে বেরিয়ে যেতে পারে, সে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *