সম্পদের হিসাব দেবেন মন্ত্রীরাও

সম্পদের হিসাব দেবেন মন্ত্রীরাও

তাজা খবর:

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি মন্ত্রীরাও সম্পদের হিসাব দেবেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি মন্ত্রীদেরও সম্পদের হিসাব দেয়া উচিত বলে মনে করেন কি-না জানতে চাওয়া হয় প্রতিমন্ত্রী কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। আমি তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, কথা দিয়েছি। আমরা নিয়মিতভাবে যেহেতু রিটার্ন জমা দেই, আমরা অবশ্যই তিন বছর পর পর এটি জমা দেবো। আমরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হই। অন্তত আমাদের এখানে একবার বা দুইবার জমা পড়বেই।’

মন্ত্রীদের আয়কর রিটার্নের বিবরণী পাওয়ার সুযোগও সাংবাদিকদের রয়েছে বলে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইনে কিন্তু যেকোনো মন্ত্রীর ট্যাক্স রিটার্ন কপিটা আপনি নিতে পারেন। কোনো অসঙ্গতি থাকলে আপনারা কিন্তু অভিযোগ করতে পারেন।’

অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো অনিয়ম দেখলে সেখানেও কিন্তু ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় রয়েছে। আমাদের বিচার বিভাগ একদম স্বাধীন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন অত্যন্ত অ্যাক্টিভলি কাজ করছে।’

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই যে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার জন্য আমরা আগামী থেকে সকলেই, কর্মকর্তারা এবং আপনি জানেন যে নির্বাহী বিভাগের প্রধান যেমন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা সকলেই কিন্তু এ জিনিসটা আমরা দিব।’

৩২ মাসে ৫৫ কর্মকর্তার শাস্তি

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ৩২ মাসে ৫৫ জন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (৩২ মাস) প্রশাসন ক্যাডারের ৫৫ জন কর্মকর্তাকে লঘু ও গুরু দণ্ড দেয়া হয়েছে। বর্তমানে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ৪৯টি মামলা চলমান আছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

সঠিক স্থানে সঠিক লোক

দক্ষ কর্মকর্তাকে যথাস্থানে দায়িত্ব দিতে চায় সরকার। তাই ‘রাইট ম্যান রাইট প্লেস’ নীতি অনুসরণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এ নীতি বাস্তবায়নের জন্য পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ প্রস্তুত করছি। বিভিন্ন কোয়ালিটির বিভিন্ন মানুষ প্রয়োজন হয়। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কাজ আছে। এজন্য স্পেশাল কিছু লোক তৈরি করা হয়। তাতে করে একজন মানুষের কাছ থেকে সরকার অনেক বেশি কিছু পেতে পারবে। এজন্য আমরা ডাটাবেজ তৈরি করতে চাই। যাতে খুব দ্রুত লোক খুঁজে পাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *