সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ বাংলাদেশ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ বাংলাদেশ

ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিশ্বদরবারে সমাদৃত এই দেশ। ১৬ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের লোকের বসবাস। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগই মুসলিম, বাকি ১০ ভাগের মধ্যে রয়েছে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের লোক। জাতি, ধর্ম ও ভাষার পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশে তাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে অটুট। দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃ-গোষ্ঠীগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, মুরং, হাজং প্রভৃতি গোষ্ঠীর মানুষ যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে পারস্পরিক প্রতিবেশী স্বরূপ সম্প্রীতির সাথে বাঙালিদের পাশাপাশি বসবাস করছে আসছে।

বাংলাদেশের সংবিধানগত দিক থেকে বিভিন্ন ধর্মের লোকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবিধান সবাইকে যেকোনো ধর্ম গ্রহণ, চর্চা ও পালন করার অধিকার দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্র কখনোই তার নাগরিকদের মধ্যে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ ও জন্মস্থান ভেদে কোনো প্রকার বৈষম্য করবে না। স্বাধীনতার পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর তেমন কোনো বড় ধরণের ধর্মীয় বা জাতিগত আঘাত আসেনি। বাংলাদেশ তার অমলিন সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক সাম্যের জন্য সব রাষ্ট্রের কাছে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আইন প্রয়োগকারী সব কর্তৃপক্ষ সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো হামলা প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ ব্যাপারে তারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের উৎসবগুলোকে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করছে বাংলাদেশে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বন্ধন দিন দিন সুদৃঢ় হয়েছে। ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সংঘাত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন ধরে রেখেছে। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

এর ফলে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশকে। বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে সরকারি ছুটি দেওয়া এবং গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। এ অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতিতে সারা বিশ্বের, বিশেষ করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান অধিষ্ঠিত দেশগুলোর বিভিন্ন সভ্যতার নিদর্শন, কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যসহ নানা ধরণের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠীগত বৈষম্যহীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে অনুকরণীয় বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *