সার্কভুক্ত দেশের বাণিজ্য ক্ষতি পোষাতে ৫ সুপারিশ

সার্কভুক্ত দেশের বাণিজ্য ক্ষতি পোষাতে ৫ সুপারিশ

তাজা খবর:

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ও করোনা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণসহ পাঁচটি সুপারিশ গ্রহণ করেছে সার্কভুক্ত সদস্য দেশগুলো।

বুধবার (৮ এপ্রিল) কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আশু করণীয় নির্ধারণের জন্য সার্কভুক্ত দেশসমূহের বাণিজ্য কর্মকর্তাদের এক ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এ কনফারেন্সে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান অংশগ্রহণ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

ভারতের অতিরিক্ত বাণিজ্য সচিব এস এস বাল্লাইয়ের সভাপতিত্বে এ ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম শরিফা খান। ভিডিও কনফারেন্সে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং প্লান্ট কোয়ারেন্টাইন দফতরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় পাঁচটি ক্ষেত্রে ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য সুপারিশ গৃহীত হয়। এগুলো হচ্ছে-

>> পারস্পরিক সমন্বয়ের জন্য প্রত্যেক দেশ থেকে একজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মনোনয়ন প্রদান।

>> স্থলবন্দরে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।

>> আমদানি-রফতানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাকসমূহ ফিউমিগেশন করা।

>> প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টি গ্রহণ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে বিবেচনা করা।

>> কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ইন্টার-সার্ক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এদিকে সভার শুরুতে জানানো হয় বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্যের হুমকি মোকাবিলার জন্য সার্কভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা গত ১৫ মার্চ ভিডিও কনফারেন্স করেন। এ কনফারেন্সে খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের সরবরাহ নিশ্চিতকরণের জন্য সার্কভুক্ত দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য দিক নির্দেশনা দেয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে এই ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। সদস্য দেশসমূহকে এ ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সরকার করোনা মোকাবিলায় দ্রুত ও সময়োপযোগী সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জনগণকে সেফ কোয়ারেন্টাইনে রাখাসহ চিকিৎসা প্রদান ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সামগ্রী যোগান দিতে সরকার তৎপর রয়েছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *