সীমান্তবর্তী জেলায় বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা করা হবে

সীমান্তবর্তী জেলায় বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা করা হবে

তাজা খবর:

সীমান্তবর্তীসহ উচ্চ সংক্রমিত কয়েকটি জেলায় দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যেসব জেলায় শনাক্তের হার বেশি, সেখানে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আক্রান্তদের দ্রæত শনাক্ত করে চিকিৎসার পরিধি বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অধিক সংক্রমণের জেলাগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও লোকবল বাড়াতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেছেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সিভিল সার্জনদের আগামী তিনমাস দরিদ্র ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা বিনামূল্যে করার কথা বলেছি। তিনি জানান, অধিক সংক্রমিত এলাকাগুলোতে বাড়তি ওষুধ, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ও শয্যাও পাঠানো হবে। এর আগে উত্তরাঞ্চলের উচ্চ সংক্রমণের জেলাগুলোর কর্মকর্তারা দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে করোনা পরীক্ষা আপাতত বিনামূল্যে করার প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিয়েই এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের যেহেতু সারাদেশে ঘুরতে হয়, তাই তাদের পরীক্ষাও বিনামূল্যে করা হবে। তারা কোভিড নেগেটিভ সনদ সঙ্গে রাখবেন। তাদের এই পরীক্ষা র‌্যাপিড এ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে করা হবে।

স¤প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সাতক্ষীরা, খুলনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও জয়পুরহাটসহ আরও কয়েকটি জেলায় প্রতিদিনই শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে।

দেশে গড় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ হলেও এসব জেলার অনেকগুলোতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে বেশিরভাগ জেলায় অক্সিজেন ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি আছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, আমরা অধিক সংক্রমিত জেলাগুলোতে অতিরিক্ত অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, বেড, ওষুধ ও হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা পাঠাতে শুরু করেছি। এ ছাড়াও, আমরা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছি তাদের আর কী কী প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) শেখ মোঃ হাসান ইমাম বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসকদের অধিক সংক্রমিত এলাকাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে, ২০ জন চিকিৎসককে তাদের সংশ্লিষ্ট স্টেশনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোতে ইতোমধ্যে ৬৬ জন চিকিৎসককে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অধিক সংক্রমিত এলাকাগুলোতে পাঠানোর জন্য আমাদের ১০০ জন চিকিৎসক তৈরি আছেন। যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে তাদের আমরা পাঠিয়ে দেব।

সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় শনাক্তের হার প্রায় ৫৫ শতাংশ। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন হুসেইন শাফাত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ২০ জন চিকিৎসক পাঠাতে অনুরোধ করেছিলাম। স্বাস্থ্য অধিদফতর মৌখিকভাবে চিকিৎসক পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে। আমাদের অন্যান্য কর্মীও দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *