স্ত্রীর কাছে ‘সীমিত’ সত্য গোপনের সুযোগ আছে: মামুনুল

স্ত্রীর কাছে ‘সীমিত’ সত্য গোপনের সুযোগ আছে: মামুনুল

তাজা খবর:

কথিত দ্বিতীয় বিয়ের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়া হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক দাবি করেছেন, স্ত্রীকে খুশি করতে সীমিত ক্ষেত্রে সত্য গোপনের অধিকার ইসলাম তাকে দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে নারী নিয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার পর তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ফেসবুকে এসে বৃহস্পতিবার আধা ঘণ্টারও বেশি বক্তব্য রাখেন এই ধর্মীয় বক্তা। এ সময় তিনি এই দাবি করেন।

গত শনিবার সোনারগাঁওয়ের র‌য়্যাল রিসোর্টে অবরুদ্ধ হওয়ার দিন চার সন্তানের স্ত্রী আমেন তাইয়্যেবাকে ফোন করে যে কথা তিনি বলেছেন, সেটি এই ফেসবুক লাইভে এসে অস্বীকার করেননি তিনি। তবে ফোনালাপ ফাঁস করায় চটেছেন। বলেছেন, তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয়েছে।

গণমাধ্যম এবং ফেসবুকে ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শোনা যায় মামুনুল তাকে বলেছেন, তার সঙ্গীনি জনৈক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনাচক্রে ওই কথা (স্ত্রী পরিচয় দেয়া) বলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

মামুনুল ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘ইসলামি শরিয়তের মধ্যেও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে যে, স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য, স্ত্রীকে খুশি করবার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে, সীমিত ক্ষেত্রে সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে।’

নিউজবাংলার অনুসন্ধান বলছে, সেই সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভ শুরু হওয়ার পর মামুনুলের স্ত্রী তার মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এর বাসা থেকে সন্তানদেরকে নিয়ে বের হয়ে যান। তিনি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাসায় ফেরেননি।

মামুনুল বলেন, ‘একাধিক বিয়ে করার ক্ষেত্রে আমার স্ত্রীকে আমি কীভাবে ম্যানেজ করব, কোন কথা দিয়ে তাকে আমি প্রবোধ দেব, তার সঙ্গে আমি কোন পরিস্থিতে কোন কথা বলে সান্ত্বনা দেব, সেটিও আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে কাউকে মাথা ঘামানোর দরকার নেই- এমন বার্তা দিয়ে হেফাজত নেতা বলেন, ‘সে বিষযে যদি কোনো অভিযোগ থেকেও থাকে, তাহলে সেটি থাকবে একান্তই স্ত্রীর।

‘আমি জানতে চাই আমার কোনো স্ত্রী কি কোনোদিন কখনও কোথাও বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে অথবা কোনো আদালতের কাছে আমার ব্যাপারে কি কোনো অভিযোগ দায়ের করেছে? তাহলে কেন আমার স্ত্রীর অধিকার নিয়ে গায়ে পড়ে কিছু মানুষ অতি উৎসাহী হয়ে আজকে আমাকে ঘায়েল করবার চেষ্টা করছে?’

‘একাধিক বিয়ে অধিকার’

মামুনুল দাবি করেন, একাধিক বিয়ে করা তার একান্তই ব্যক্তিগত অধিকার এবং ধর্ম বা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এ বিষয়ে কোনো বাধা নয়।

তিনি বলেন, ‘আমি একাধিক বিয়ে করেছি। শরিয়তে ইসলামে একজন মুসলিম পুরুষকে চার চারটি বিয়ে করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। দেশি আইনেও চার বিয়ে করায় কোনো নিষেধাজ্ঞা বা কোনো অনুৎসাহ নেই। কাজেই আমি যদি চারটি বিবাহ করি, তাতে কার কী?’

মুসলিম পারিবারিক আইনে একাধিক বিয়ে করার সুযোগ থাকলেও সেটি শর্তহীন নয়। স্ত্রী বা স্ত্রীরা যদি সন্তান জন্মদান বা যৌন মিলনে অক্ষম হন, যদি গুরুতর মানসিক রোগে ভোগেন, তাহলে নানা শর্তে আরও বিয়ে করার সুযোগ আছে।

তবে এ ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রী বা স্ত্রীদের লিখিত অনুমতি লাগবে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে সম্মতিপত্র লাগবে, তার পর বিয়ে করা যাবে। আর বিয়ে অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে।

আবার মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ডের পর ধর্মীয় বিষয়ে তার প্রশ্নোত্তর পর্বের একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়েছে, যেখানে তিনি বলছেন, অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি বাতিল। এট মহানবী (স.) এর বিধান।

তবে ফেসবুক লাইভে এসে এসব বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি। আর যেসব ফোনালাপের কথা তিনি তুলেছেন, তাতে স্পষ্ট যে তার চার সন্তানের জননী তার কথিত এই বিয়ের কথা জানতেন না।

আবার জান্নাত আরা ঝর্ণার বাবা ও মায়ের বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে। তারাও বলেছেন, কথিত এই বিয়ের বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

আপত্তি থাকলে আমার স্ত্রীদের

তার কথিত বিয়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ছাড়া অন্যদের কথাবার্তা পছন্দ নয় মামুনুলের।

তিনি বলেন, ‘আমি একাধিক বিয়ে করেছি এবং সেই একাধিক বিয়ে করা আমার শরিয়তসম্মত বৈধ অধিকার এবং সেটা আমার নাগরিক অধিকার। যদি আমার একাধিক বিবাহের ওপর কোনো আপত্তি থাকে, সেটি থাকবে আমার পরিবারের, সেটি থাকবে আমার স্ত্রীদের।

‘আমি একাধিক বিবাহ করে যদি আমার স্ত্রীদেরকে কোনো অধিকার বঞ্চিত করে থাকি, তাহলে তারা অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ দায়ের করতেন। কিন্তু আজও পর্যন্ত কেউ কি কোথাও দেখাতে পারবেন যে, আমার কোনো স্ত্রী কোথাও আমার বিরুদ্ধে এতটুকু অভিযোগ কি করেছে যে আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছি?’

তিনি বলেন, ‘সুতরাং আমার স্ত্রীদের অধিকার নিয়ে, আমার স্ত্রীদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কী ধরনের হবে কোন স্ত্রীর সঙ্গে আমার সম্পর্কের পরিধি কতদূর পর্যন্ত জানাব, কতদূর পর্যন্ত জানাব না, সেটি সম্পূর্ণ আবার ব্যক্তিগত এখতিয়ার।

‘আমার এই ব্যক্তিগত এখতিয়ারকে লঙ্ঘন করে যারা এ বিষয়ে আমার ব্যাপারে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আচরণ করেছেন, আমি মনে করি তারা সকলেই আমার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন এবং আমার নাগরিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *