স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সোনালি স্বপ্ন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সোনালি স্বপ্ন

তাজা খবর:

স্বাধীনতার ৫০ বছর বা সুবর্ণজয়ন্তী খুবই আনন্দবহ। জাতির পিতা যখন দেশ স্বাধীন করলেন সেই সময়ের দিকে তাকিয়ে প্রথমে অর্থনীতির কথা বলি। ষাটের দশকে ব্যাকওয়ার্ড বা পশ্চাৎপদ দেশ এবং সত্তরের দশকে অনুন্নত বা আনডেভেলপড দেশ বলা হতো গরিব দেশকে। সেটি খুব অসম্মানজনক ছিল।

স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে দরখাস্ত দিয়ে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত বা এলডিসি হিসেবে তালিকাভুক্ত করান। এর ফলে বেশ কিছু সাহায্য পাওয়া যেত, তবে তাও গৌরবের ছিল না। এছাড়া এর ফলে বিশ্ববাণিজ্যে বেশ কিছু সাশ্রয় ছিল।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বেশ কিছু সমস্যায় পড়লেন রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার (জনগণ নয়) আর পাকিস্তান, চীন বলা শুরু করল, বাংলাদেশের তো সার্বভৌমত্ব নেই; এটা ভারতের করদ রাজ্য। পাকিস্তানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মোল্লারা (গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, জুলমত আলী খান, আব্দুল জব্বার খদ্দর) বলা শুরু করল, শেখ মুজিব ইসলামি পাকিস্তানকে হিন্দু বাংলাদেশ বানিয়ে ফেলেছেন! আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বললেনবাংলাদেশ তো তলাবিহীন ঝুড়ি। অর্থনীতিবিদ ফ্যালান্ড ও পারকিনসনস্ বললেন, আগামীতে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে টিকে থাকলে আমাদের পাঠ্যপুস্তক নতুন করে লিখতে হবে। বাংলাদেশ হবে একটা টেস্ট কেইস।

একটি কপর্দকশূন্য রাজকোষ নিয়ে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র ১৮ ডলার। দেশের খাদ্য গুদামে খাদ্য নেই। মাঠে ফসল নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র অভাব। শিল্পকারখানার মালিকরা সবাই পাকিস্তানে পালিয়ে গেছে। প্রত্যয়ী বঙ্গবন্ধু আগে থেকেই চলার পথ ঠিক করে রেখেছিলেন। সবকিছু তার মাথায় ছিল। বন্দি অবস্থায় তিনি ভেবে রেখেছিলেন কীভাবে স্বাধীন বাংলাদেশকে পরিচালনা করবেন।

‘সবার সঙ্গে বন্ধুতা, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ মন্ত্রে জোটনিরপেক্ষ নীতির ফলে পৃথিবীর বহু দেশের সঙ্গেই সখ্য হয়ে গেল বাংলাদেশের। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফিরে আসেন তখন বাংলাদেশকে মাত্র ৪টি দেশ স্বীকৃতি দেয়। আর যখন ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকরা তাকে হত্যা করে তখন ৯০টি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এটা সম্ভব হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক তৎপরতার সাফল্যে। এক্ষেত্রে একজন সফল পররাষ্ট্রনীতি জ্ঞানসম্পন্ন নেতার দেখা পাই আমরা। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের গুণেও অনেকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বিশেষ করে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ দেশ স্বাধীনের পরপরইবাহাত্তরের মার্চেই ভারতীয় সৈন্যবাহিনী সরিয়ে নিয়ে যান। এতে করে বিদেশি রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশকে

স্বীকৃতি জানাতে স্বস্তিবোধ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আর কোনো সন্দেহ থাকে না।

ভারত তখন বাংলাদেশের আরও একটি বড় উপকার করেছিল। তখন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার কোনো রিজার্ভ ছিল না। ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশকে ধার দিয়েছিল তারা। সেই অর্থ নিয়ম অনুযায়ী রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়াতে জমা রাখা হয়। ওই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আইএমএফের চাঁদা দিয়ে সদস্য হয়। শুরু হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতার পর্ব, যার প্রায় অর্ধেকই আসে গ্র্যান্ট বা মঞ্জুরি হিসেবে।

স্বাধীনতার পরে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৮৫ ডলার। জিডিপি ১৯৭০-৭১ বছরের তুলনায় শতকরা ৩০ ভাগ কমে যায়। ১৯৭৪-৭৫ সালে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াল শতকরা ৭.৩ ভাগ। নানা ক্ষেত্রে উন্নয়ন শুরু হলো। বিশেষ করে, কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ও উৎপাদন বৃদ্ধি শুরু হলো। কেননা, বঙ্গবন্ধু কৃষির নানা ক্ষেত্রে সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। নামমাত্র মূল্যে সেচ, সার ও বীজ দিয়ে কৃষকদের সাহায্য করা শুরু হয়। ফলে কৃষিতে আমূল বদলে গেল দেশ। নতুন স্বাধীন দেশে উন্নয়নের মহা কর্মকাণ্ড শুরু হলো। ১৯৭২ সালে মূল্যস্ফীতি বেশি ছিল। পরে মূল্যস্ফীতিও কমে এলো উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে। মানুষের অভাব-অনটন অবশ্য কমেনি। পুরোপুরি কমল না। একটি সদ্য স্বাধীন দেশের নাগরিকদের নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। আবার স্বাধীন দেশটির অভিভাবক হিসেবে বঙ্গবন্ধুকেই জনসাধারণের দাবি-দাওয়া মেটাতে হয়েছে।

নয়মাস সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়া দেশটিতে কোনো রকমের অবকাঠামো ছিল না। বন্দরগুলোতে মাইন পুঁতে রেখে যায় পরাজিত পাকিস্তানি সৈন্যরা। শিল্পকারখানার মালিকরা সব বন্ধ করে দিয়ে চলে গিয়েছিল। এগুলোকে রাষ্ট্রীয় খাতে নেওয়া ছাড়া বঙ্গবন্ধুর সরকারের সামনে তখন কোনো উপায় ছিল না। বঙ্গবন্ধু তাই করলেন। ব্যাংকগুলো সব অচল হয়ে পড়েছিল। এই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হলো। ৬টি তফসিলি ব্যাংক তৈরি করে তার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলো।

জাতিসংঘে চীনারা ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে ভেটো দিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পরিচালনায় তার কার্যক্রম গণচীনসহ বিশ্ববাসী দেখল। বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখলেন, বুঝতে পারলেন বঙ্গবন্ধু একজন গণতান্ত্রিক নেতা। তাই ১৯৭৪ সালে চীন আর ভেটো দিল না। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হলো।

কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে জাতির পিতার দেখা হয় আলজিয়ার্সে জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে, তিনি বললেন ‘আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে দেখলাম।’ সৌদি আরবের বাদশাহর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর দেখা হলো। সৌদি বাদশাহ সে সময় বঙ্গবন্ধুকে বললেন, আমি তো আপনাকে কোনো সাহায্য দিতে পারব না; আমাদের এবারের বরাদ্দ শেষ। জাতির পিতার জবাব : আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছি, সাহায্য চাইতে আসিনি। আপনার দেশ এখনো আমাকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু আমাদের দেশের মুসলিমদের হজ করতে অনুমতি দিয়েছেন। এতে আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

যুগোসøাভিয়ার প্রেসিডেন্ট যোশেফ টিটো বঙ্গবন্ধুকে বিমানবন্দরে রিসিভ করতে এলেন। নিয়ম ভেঙে তিনি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে গেলেন তখন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সব প্রথা ভেঙে আন্তরিকতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এভাবে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের গতিপ্রকৃতি বদলে দিলেন। সবার সন্দেহ ও প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছিলেন তিনি।

দেশ পরিচালনায় তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। রাজনৈতিক প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সংবিধান রচনা, শিক্ষার ক্ষেত্রে খুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন ছাড়াও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কাজ শুরু করলেন। তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবকিছু নতুন করে গড়তে শুরু করেন। এইভাবে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রের নানা জায়গায় সংবিধান প্রণয়ন, শিক্ষার উপযোগী কাঠামো, ব্যবসার প্রসারেও নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে গেলেন। সেখানে বাংলায় ভাষণ দিলেন। মনে হলো বঙ্গবন্ধু বিশ্ববাসীর পক্ষ থেকে সেখানে বক্তব্য দিলেন। ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ তিনি সেখানে ভাষণ দিলেন। আমার সৌভাগ্য আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে যাওয়ার পরে মনে হলো বিশ্ববাসী বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বনেতা হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। সম্প্রতি নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেনশেখ মুজিবুর রহমান একজন বিশ্বনেতা, তিনি শুধু বঙ্গবন্ধু ননবিশ্ববন্ধু।

বঙ্গবন্ধু ধর্মের নামে বেসাতি বন্ধে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেন। ৪টি সুনির্দিষ্ট অপরাধ হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ও ধর্ষণকারী ছাড়া বাকি সব রাজাকার-আলবদরকে ক্ষমা ঘোষণা করলেন। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু একজন মহান নেতা হিসেবে নিজেকে আবারও প্রমাণ করলেন। তখন তিনি ঘোষণা করলেন, সব মানুষের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা। তিনি কল্যাণরাষ্ট্রে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিলেন। যুুদ্ধে অপমানিত, লাঞ্ছিত মা- বোনদের পুনর্বাসনে জাতির পিতা নারী পুনর্বাসন বোর্ড করলেন। পূর্ব জার্মানির রাষ্ট্রপতি অর্থাৎ তার বন্ধুকে ফোন করে সব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন। স্থাপন করলেন পঙ্গু হাসপাতাল। সুহৃদ রাশিয়া সব মাইন পরিষ্কার করল এবং বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করল।

কিন্তু ৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট ট্র্যাজেডির পরে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি পাল্টে গেল। গরিব আরও গরিব হলো। ধনী আরও ধনী হলো। এইভাবে বাংলাদেশ চলল বেশ কিছুকাল। এরপরে ১৯৯৬ সালে জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরি তার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলেন। তিনি তার বাবার আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালনা করলেন। শেখ হাসিনার দেশ গঠনে বাংলাদেশ কোথায় দঁাঁড়িয়ে আছে তার প্রমাণ আজকের বাংলাদেশ।

নিউজ উইক বলেছিল, বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ হচ্ছে রাজনীতির কবিতা। প্রকৃতপক্ষে সাতই মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ঘোষণা ছাড়া আর কিছুই নয় বলেও তারা ষোলই মার্চ ১৯৭২ সালে বক্তব্য ছাপে।

আজ জাতির পিতার ১০১ বছর বয়সে তার সংকল্পে সংগ্রামে পাওয়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের মানুষরা কোথায় দাঁড়িয়ে! সেই তলাবিহীন ঝুড়ির প্রবক্তারা এখন বঙ্গবন্ধুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ১৯৭২ এর তুলনায় জনসংখ্যা হয়েছে দ্বিগুণের কিছু বেশি, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে চার গুণ। স্বাদুজলের মাছ আর সবজিতে দেশ এখন পৃথিবীতে তৃতীয়। আলুর উৎপাদনে সপ্তম। মানুষের গড় আয়ুু ৪৭ থেকে বেড়ে এখন ৭৩ বছর। ৯০০ কোটি ডলারের অর্থনীতি এখন ৩৪০০০ কোটি ডলার। মাথাপিছু আয় দুই হাজার মার্কিন ডলারের কমবেশি; দ্য ইকোনমিস্ট আর আইএমএফ এটিকে যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে বেশি বলে বক্তব্য দিয়েছে। হৃদয় উষ্ণ করা সামাজিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতায়নে এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম জানান দিচ্ছে। শূন্যের অংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৪৪০০ কোটি ডলার হলেও এটা রিজার্ভ জিডিপির ন্যূনতম অনুপাতের চেয়ে কম; আপৎকালীন খাদ্য ও অব্যাহত উন্নয়নের মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি ছাড়া রিজার্ভকে এখনো স্পর্শ করা সমীচীন হবে না।

স্মরণ রাখা ভালো যে হাওয়াই দুশমনসহ বাংলাদেশের বৈরীশক্তি বিপুল এবং বিশাল। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ খাদ্যদ্রব্যের অভাবের কারণে হয়নি। মনুষ্যসৃষ্ট অব্যবস্থাপনা ও কিছু দুর্নীতিবাজ খাদ্য কর্মকর্তা ও মধ্যস্বত্বভোগী রক্তচোষাদের ষড়যন্ত্র কারসাজিতেই এটি ঘটে। চাল, আলু এবং পেঁয়াজের সংকটের আসা-যাওয়া এই মধ্যস্বত্বভোগীদের শক্তিমান অব্যাহত উপস্থিতিরই জানান দেয়। আইনি সংস্কার এবং সতর্ক তদারকি ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত উৎপাদন ও বিপণন সমবায় ব্যবস্থা চালু করাও জরুরি প্রয়োজন। আর্থিক সংস্কার ও মানি লন্ডারিং দমন ও ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ এখন সময়ের দাবি।

দেশে দারিদ্র্য প্রায় হটিয়ে দিয়ে অসীম সাহসী প্রধানমন্ত্রী, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ শেখ হাসিনা বিদ্যুতে স্বয়ম্ভরতা এনে নিজস্ব অর্থে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে এবং মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ বিশাল অবকাঠামো গড়ে বাংলাদেশের কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করেছেন। শেখ হাসিনা এখন একজন বিশ্বনন্দিত নেতা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই কল্যাণরাষ্ট্রে তখনই রূপান্তরিত হয় যখন জাতিসংঘের এসডিজি’র ভাষায় ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’ ঘটে। অর্থাৎ আয়, সম্পদ ও সুযোগ বৈষম্য দূর করাটাই এখন সোনার বাংলায় কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় শেষ বাধা। এজন্য জনবন্ধু শেখ হাসিনার ওপরই ভরসা করে রইলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *