স্বাস্থ্য খাতের ১৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা দুদকে

স্বাস্থ্য খাতের ১৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা দুদকে

নিউজ ডেস্ক:

সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এ তালিকায় রয়েছে ১৫০ জনের নাম।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য খাতের ১৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যে নাম দুদকের কাছে রয়েছে, তাদের মধ্যে ৩০ জন চিকিৎসক। এছাড়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ রয়েছেন ৭-৮ জন। তদন্তের স্বার্থে সবার নাম এখনই প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতরে ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দেয় দুদক।

চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন বিভিন্ন কার্যালয়ে কিছু দুর্নীতিবাজ, স্বেচ্ছাচারী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে দুর্নীতির সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পদের মালিকও হয়েছেন। দুদকে তাদের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে অনেক অভিযোগ জমা হয়েছে।

যে ২৩ জন কর্মকর্তার বিষয়ে বলা হয়েছে তারা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী প্রধান (পরিসংখ্যানবিদ) মীর রায়হান আলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী আশরাফুল ইসলাম, প্রধান সহকারী সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী তৈয়বুর রহমান, সাইফুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী ফয়জুর রহমান, মাহফুজুল হক, কম্পিউটার অপারেটর আজমল খান।

সিলেটের স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী নুরুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গাউস আহমেদ, উচ্চমান সহকারী আমান আহমেদ, অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার অপারেটর নেছার আহমেদ চৌধুরী।

তালিকায় রয়েছে- খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকের কার্যালয়ের ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদ হোসেন, অফিস সহকারী মো. মাসুম, প্রধান সহকারী আনোয়ার হোসেন।

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান সহকারী-কাম হিসাবরক্ষক আবদুল কুদ্দুস।

বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. রাহাত খান, উচ্চমান সহকারী জুয়েল। রংপুর স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকের কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমান, স্টেনোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এ তালিকায় রয়েছেন।

দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির যে ১১ খাত চিহ্নিত করা হয়েছে সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অনুরোধ করেছে দুদক। গত সপ্তাহে এই চিঠি পাঠানো হয়।

দুদকের প্রতিবেদনে উঠে আসা দুর্নীতির অন্যতম হচ্ছে- স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও ওষুধ কারসাজি। প্রতিবেদনে এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৫ দফা সুপারিশও করা হয়।

এদিকে দুদক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ৩৪ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। তারা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা-শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এমএ রশিদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের আবদুল মালেক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সচিব আনোয়ার হোসেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাব সহকারী আবদুল হালিম ও ল্যাব সহকারী সুব্রত কুমার দাশ।

এছাড়া তালিকায় রয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক ইমদাদুল হক, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের পরিচালক মো. আজাদ, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের সচিব সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মো. শাহজাহান, রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাব সহকারী আনোয়ার হোসেন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আবদুল মজিদ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আবদুল্লাহেল কাফি, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মহিউদ্দিন মারুফ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্টোর ম্যানেজার হেলাল তরফদার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন চৌধুরী, জালাল উদ্দিন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী প্রধান পরিসংখ্যানবিদ মীর রায়হান আলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (পরিচালক স্বাস্থ্য বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতর) ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী আশরাফুল ইসলাম, সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী তৈয়বুর রহমান, উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলাম। বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক এটিএম দুলাল, চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদফতরের উচ্চমান সহকারী মো. ফয়জুর রহমান, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অফিস সহকারী তোফায়েল আহমেদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুজিবুল হক মুন্সী ও অফিস সহকারী কামরুল ইসলাম।

এদিকে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তাদের সনাক্ত করতে উচ্চ পর্যায়ের তিনটি কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাশাপাশি মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত এ কমিটি তিনজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কাজ করছে।

১৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে দেয়া এক চিঠিতে স্বাস্থ্য খাতের নৈরাজ্য ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে দুদক। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে দেশে বড় চক্রান্ত চলছে উল্লেখ করে চিঠিতে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়।

অপরদিকে দুদকের চিঠির সূত্র ধরেই স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জনগণের স্বাস্থ্যসেবার অর্থ আত্মসাৎ করেছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করছি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে।

দুদকের একজন পরিচালক জানান, তিনজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে তিনটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। তারা দুদকের কাছে চিঠি দিয়ে তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে।

দুদক বলছে, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ওষুধ, সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অসাধু ব্যক্তিরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট করে স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের দুর্নীতি করছে। তারা সিন্ডিকেট করে জনসাধারণের জন্য করা সরকারের বাজেটের ৭০-৮০ ভাগই নিজেদের দখলে নিচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *