হাইকোর্ট এলাকায় ৩ মোটরসাইকেলে আগুন, বিএনপি কর্মী আটক

হাইকোর্ট এলাকায় ৩ মোটরসাইকেলে আগুন, বিএনপি কর্মী আটক

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির আগের দিন আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের গেটের সামনে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে বিএনপি সমর্থকরা। পর্যায়ক্রমে ওই তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার সময় তারা বেগম জিয়ার মুক্তি চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে। পাশাপাশি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বেগম জিয়ার জামিন না দিলে সারাদেশে আগুন সন্ত্রাসেরও হুমকি দিয়ে স্লোগান দেয় তারা। পরবর্তীতে পুলিশে উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বিএনপির সমর্থকরা।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হাইকোর্টের সামনে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপি সমর্থকদের এই নাশকতার বিষয়ে জানা গেছে।

আবুল হাসান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পৌনে ৫টার মধ্যে হাইকোর্টের মাজার গেট, ঈদগাহ মাঠের গেট ও বার কাউন্সিলের গেটের সামনে রাখা তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়ে দেয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক। এসময় তারা বেগম জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিভিন্ন রকমের স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বেগম জিয়াকে মুক্তি না দিলে সারাদেশে আগুন জ্বালানো, কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা এমনকি ভয়ংকর রূপ দেখানোরও হুমকি দিয়ে হইচই করতে থাকেন। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত রাস্তা পার হয়ে প্রেসক্লাবের দিকে পালিয়ে যায়। এমন ঘটনা থেকে গুঞ্জন উঠেছে, বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী ত্রাস সৃষ্টি ও জনমনে ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে রিহার্সাল দিলো বিএনপি।

বেগম জিয়ার জামিনের রায় ঘোষণার আগের দিন হঠাৎ করে হাইকোর্ট এলাকায় নাশকতার ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, দেখুন- বেগম জিয়ার মুক্তি আদায়ে আমরা প্রতিদিনই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। হাইকোর্ট এলাকায় যদি বিএনপির কোনো নেতা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে তার দায়িত্ব আমরা নেব না। কারণ আমরা এখন পর্যন্ত এই ধরণের কঠোর প্রতিরোধের ঘোষণা দেইনি। সুতরাং কেউ যদি বিএনপির নামে এসব করে থাকে তবে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। পরিস্থিতি বুঝেই আমরা কর্মসূচি দিচ্ছি।

এদিকে শাহবাগ থানা সূত্রে জানা গেছে, অতর্কিতভাবে তিনটি মোটরসাইকেলে একই সময়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে নাশকতা বলেই মনে করছে পুলিশ। আগুন দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে কার নির্দেশে সেই বিএনপি কর্মী নাশকতা চালিয়েছেন সেটি জানা যায়নি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *