হেফাজতের সাথে বিএনপি জামায়াতও জড়িত : প্রধানমন্ত্রী

হেফাজতের সাথে বিএনপি জামায়াতও জড়িত : প্রধানমন্ত্রী

তাজা খবর:

সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড জাতীয় সংসদে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, এসব অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই সমস্ত ধর্মের নামে অধর্মের কাজ জনগণ কখনোই মেনে নেবে না, কখনোই সহ্য করবে না। কিছু লোকের জন্য ইসলাম ধর্মের বদনাম হবে এটা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। শুধু হেফাজত একা নয়, হেফাজতের সাথে বিএনপি-জামায়াতও জড়িত।
গতকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বক্তৃতাকালে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। হেফাজত নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগুন নিয়ে খেলছেন, এক ঘরে আগুন লাগলে সেই আগুন অন্য ঘরেও চলে যেতে পারেÑ সেটি কি আপনাদের হিসাবে নেই? আমি শুধু এইটুকু বলব, দেশবাসী যেন একটু ধৈর্য ধরেন। আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরেই এগোতে হবে। তিনি বলেন, অবাক লাগে বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে। হেফাজতের সাথে যত রকমের মদদ দেয়া এবং জ্বালাও-পোড়াও করার যে পরামর্শ সেটিও তারা দিয়েছে। তাদের (বিএনপি) কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ কি শুধু এগুলো বসে বসে সহ্য করবে? সহ্য করবে না। এখানে কেউ কেউ বলছেন পুলিশ কেন ধৈর্য দেখিয়েছে? আমরা ধৈর্য দেখিয়েছি, এগুলো বিরত করার চেষ্টা করেছি। কারণ সঙ্ঘাতে সঙ্ঘাত বাড়ে, আমরা তা চাইনি। আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ভালোভাবে উদযাপন করতে চেয়েছি; কিন্তু যারা এসব অপকর্ম করেছে, দেশবাসীই এটার বিচার করবে, দেশবাসী দেখবে যে এদের চরিত্রটা কী?

হেফাজতের সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, একটু বুঝে নিন কেমন নেতৃত্ব আপনাদের! আগুন লাগিয়ে জ্বালাও-পোড়াও করে বিনোদন করতে গেলেন একটা রিসোর্টে, তাও একজন সুন্দরী মহিলা নিয়ে। এটাই তো বাস্তবতা। অর্থাৎ এরা ইসলাম ধর্মের নামে কলঙ্ক। ইসলাম ধর্মকে তারা ছোট করে দিচ্ছেন। কিছু লোকের জন্য এই পবিত্র ধর্মে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের নাম জুড়ে যাচ্ছে। আর এখন তো যে চরিত্র দেখালো (মামুনুল), তাতে দুশ্চরিত্রের নামও জুড়ে দিচ্ছে।

সংসদ নেতা বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। যে ইসলাম ধর্ম সব থেকে সহনশীলতার কথা শিখিয়েছে, শান্তির কথা বলেছে, সাধারণ মানুষের কথা বলেছে, মানুষের উন্নয়নের কথা বলেছেÑ সেই পবিত্র ধর্মকে এরা কলুষিত করে দিচ্ছে। এরা ধর্মের নামে ব্যবসা শুরু করেছে। এদের এত অর্থ কোথা থেকে আসে এই বিনোদনের জন্য, সেটিও একটা প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে কেউ অসম্মান করুক সেটি আমরা চাই না। আমরা চাই এ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এই দেশে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করে, সেটিই করবে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। কিছু লোকের জন্য ইসলাম ধর্মের বদনাম হবে এটা কখনোই মেনে নেয়া যায় না।

পার্লারের নারী নিয়ে বিনোদন মামুনুলের : এ সময় হেফাজত নেতা মামুনুল হক পার্লারে কাজ করা এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁওয়ের রিসোর্টে বিনোদন করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই নারীকে মামুনুল হক বউ হিসেবে পরিচয় দিলেও নিজের বউয়ের কাছে বলেছেন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিচয় দিয়েছেন। সেখানে হেফাজতের ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের চরিত্রটা কী তা বলতে চাই না। গতকালই (শনিবার) আপনারা দেখেছেন। ধর্ম ও পবিত্রতার কথা বলে অপবিত্র কাজ করে ধরা পড়ে। এ প্রসঙ্গে সংসদ নেতা বলেন, সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ধরা পড়ল। তা ঢাকার জন্য নানা রকম চেষ্টা করেছে তারা। এক নারীকে বউ হিসেবে পরিচয় দেয়। আবার নিজের বউয়ের কাছে বলে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এটা বলেছি। যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে তারা এরকম মিথ্যা কথা বলতে পারে, অসত্য কথা বলতে পারে? তারা কী ধর্ম পালন করবে, মানুষকে কী ধর্ম শেখাবে? কয়েকদিন আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে, এখন সুন্দরী নারী নিয়ে বিনোদন করতে গেলেন!

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলার আহ্বান : সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। আজই (রোববার) আমি প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছি। হয়তো মানুষের একটু কষ্ট হবে। কিন্তু মানুষের জীবনটা তো আগে। আগে জীবনটা বাঁচাতে হবে। তিনি বলেন, সব কিছু আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা প্রথমে এক সপ্তাহের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমরা টিকার দ্বিতীয় ডোজ শুরু করব। আরো টিকা আনা হবে, টিকা আনার ব্যবস্থা করব।

সুবর্ণজয়ন্তীর সময় হামলা কেন? বক্তব্যের সময় হেফাজতের বিক্ষোভের সচিত্র প্রতিবেদনগুলো সংসদে একে একে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি ঠিক সেই সময় এসব তাণ্ডব চালানো হলো কেন? কারা এসবে খুশি হতে পারেনি, তা দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার। তিনি বলেন, ওই সময় আমাদের অনেক বিদেশী অতিথি আসছেন। অনেকে বার্তা দিচ্ছেন। ব্রিটেনের রানী থেকে সৌদি আরবের বাদশাহ সবার শুভেচ্ছা আমরা পাচ্ছি। ১১৬টি দেশ এবং জাতিসঙ্ঘসহ ৩৩টি আন্তর্জাতিক সংস্থা আমাদের শুছেচ্ছা জানিয়েছে। এত বড় একটা সম্মান বাংলাদেশ পাচ্ছে। সেখানে কারা খুশি হতে পারে নাই? ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসার কথা। তাকে আসতে দেয়া যাবে না, বাধা দেয়া হবে কেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালের ২১ মে রাজীব গান্ধী মৃত্যুবরণ করেন। তার অন্তেষ্টিক্রিয়ায় আমরা যোগদান করেছিলাম। তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিল বেগম খালেদা জিয়া। তখন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে প্রায় সবাই এসেছিলেন। আমেরিকা, ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস, ইয়াসির আরাফাতসহ সবাই উপস্থিত। ইয়াসির আরাফাত সাহেব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেখে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়ালেন, কিন্তু খালেদা জিয়া হাত গুটিয়ে বসে থাকলেন। কিন্তু সেই খালেদা জিয়াকে দেখলাম নরেন্দ্র মোদির সাথে হ্যান্ডশেক করার ছবি। সেই হাত যেন আর ছাড়ে না। শুধু তাই না, তার সাথে টেলিফোনের সময় যে খিলখিল হাসি, খালেদা জিয়ার হাসির আওয়াজ সেটিও তো সবার কানে গেছে। আবার যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নরেন্দ্র মোদি আসবেন, তখন বাধা দেয়া এবং হেফাজতের সাথে বিএনপি হাত মেলালো কেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনকালে হেফাজত শুরু করল তাণ্ডব। হেফাজত তো একা নয়, হেফাজতের সাথে জামায়াত-বিএনপিও জড়িত। তাদের প্রত্যেকটা কর্মকাণ্ডে দেখা যায়। তারা ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যে সহিংসতা চালায়। ২৮ মার্চ হরতাল দিয়ে সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে তারা তাণ্ডব চালায়। আওয়ামী লীগ অফিস, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, সরকারি অফিস-আদালত, বাস-ট্রাক-ট্রেনসহ পরিবহনে হামলা ও ভাঙচুর এবং পোড়ানো হয়। হেফাজতরা ছোট ছোট শিশুদের সামনে নিয়ে এসে তাদের হাতে লাঠি, অস্ত্র এবং সবার ব্যাগের ভেতরে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরা পবিত্র কুরআন শরীফ পর্যন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে। এরা কি সত্যিই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে যে তারা কুরআন শরীফ পর্যন্ত পোড়ায়? ইসলাম ধর্মের নামে এই জ্বালাও-পোড়াও এটা কিভাবে এলো?
আন্তরিকভাবে কাজ করতে এনএসআইর প্রতি আহ্বান

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনএসআইর কর্মীদের দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই এনএসআইর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আপনাদের কর্তব্য পালন করবেন। কর্তব্যপরায়ণতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) নবনির্মিত বহুতলবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয় ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি এই ভবন উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করেন।

এনএসআই সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জান-মাল রক্ষা করা এবং জনগণের জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় যা যা করণীয় সেটা আপনাদের করতে হবে। এই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক বা দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশের উন্নয়নে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করলেও এই অবস্থা থেকেও বাংলাদেশ উত্তোরণ ঘটাতে পারবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকা দান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষ যাতে নিজেদের আরো সুরক্ষিত করে সেজন্য তাদের মধ্যে আরো সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে এনএসআইর গুরুত্ব বিবেচনায় এনে অনেক নতুন পদ সৃষ্টি এবং সংস্থার জনবল দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছি। একইভাবে আগের মঞ্জুরিকৃত পদকে দ্বিগুণ করা হয়েছে। তার সরকার এ সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির জন্য সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে ও বেতন স্কেল সমন্বয় করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবল ও কর্মপরিধি বৃদ্ধি পেলেও এনএসআই প্রধান কার্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত স্থান সঙ্কুলান ছিল না। দাফতরিক কাজ এবং স্পর্শকাতর গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে তার সরকার এর প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তদনুযায়ী তিনি ১৭ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে প্রধান কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় এনএসআইর নিজস্ব ভবন ছিল না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার প্রধান কার্যালয় ছাড়াও সব বিভাগ ও জেলা এনএসআই অফিসের জন্য জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নিজস্ব জমিতে তিনটি বিভাগীয় কার্যালয় এবং ২০টি জেলা কার্যালয়ের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ২১টি জেলা কার্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জন্য ঢাকার ধামরাইয়ে ৯ দশমিক ৫৬ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছি। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নতুন জনবল, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অনুমোদন ইতোমধ্যেই দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *