১৩০ বছর পর বেতন প্রদানে ডিজিটাল হচ্ছে রেলওয়ে

১৩০ বছর পর বেতন প্রদানে ডিজিটাল হচ্ছে রেলওয়ে

তাজা খবর:

রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ও পেনশনের টাকা নগদে পেয়ে আসছেন সেই ১৮৯০ সাল থেকে। কোনো সময় স্টেশন কাউন্টারে সংগৃহীত টাকা থেকে, আবার কোনো সময় রেলভবন থেকে টাকা তুলে প্রতি মাসে তাদের নগদে দিয়ে দেয়া হতো। পুরনো আমলের সেই অ্যানালগ ব্যবস্থাপনা অবশেষে ২০২০ সালের এপ্রিলে এসে ডিজিটাল কার্যক্রম শুরু হলো।

করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে লকডাউনের মধ্যে ট্রেন গিয়ে যখন প্রতিটি স্টেশনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নগদে টাকা দিয়ে আসছিল, তখন বিষয়টি নজর কাড়ে সবার। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়। পরে ১৮৯০ সাল থেকে চলতে থাকা সেই টাকা দেয়ার ব্যবস্থাপনাটি ২০২০ সালের এপ্রিলে এসে ১৩০ বছর পর ডিজিটাল হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ও পেনশনের টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে রেলের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বর্তমানে নগদের পরিবর্তে ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা প্রায় ২৭ হাজার পেনশন গ্রহীতার মধ্যে এই মাসে ইএফটির মাধ্যমে পেনশন দিয়েছে প্রায় তিন হাজার ৮০০ জনের। ডাটা এন্ট্রি হয়ে গেছে প্রায় পাঁচ হাজার ৫০০ জনের। সামনে তারাও পেনশন ইএফটির মাধ্যমে পেয়ে যাবেন। ডাটা এন্ট্রির কাজ একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পূর্বাঞ্চলের অবশিষ্ট পেনশন গ্রহীতারা ইএফটির মাধ্যমে পেনশন তুলতে পারবেন।

এ ছাড়া ঢাকা চট্টগ্রাম ডিভিশনে প্রায় ৮৪ জন কর্মকর্তার বেতন ইএফটির মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। বাকিদেরও ইএফটির মাধ্যমে দিতে দ্রম্নত কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে ঢাকা ডিভিশনের কয়েকজন কর্মকর্তার ইএফটির মাধ্যমে টাকা দেয়া হলেও বেশিরভাগই দেয়া হচ্ছে নগদে। এ জন্যই লকডাউনের মধ্যেও দুই-চারটি বগির রেক চালাতে হচ্ছে বিভিন্ন পয়েন্টে।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা জামশেদ মিনহাজ রহমান বলেন, ইএফটির সিস্টেমটি আমরা শুরু করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর শেষ করতে পারিনি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রম্নত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করব।

রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালে দিতে আরও কিছু সময় লাগবে। পূর্বাঞ্চলে ডিজিটালে দেয়া শুরু হলেও পশ্চিমাঞ্চলে এখনো শুরু করতে পারেনি। আশা করছি, করোনাভাইরাস স্বাভাবিক হলে কয়েক মাসের মধ্যে পেমেন্ট সিস্টেম ডিজিটালে নিয়ে আসতে পারব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *