১৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় ৩ বছরে

১৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় ৩ বছরে

তাজা খবর:

মধ্যমেয়াদে রাজস্ব আয়ের বিশাল এক টার্গেট হাতে নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী তিন বছরে ১৩ লাখ ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে চায় সরকার। এর মধ্যে শুধুমাত্র জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমেই আদায় করা হবে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। এনবিআরের রাজস্ব আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আবার আসবে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক থেকে। এ দুই খাত থেকে তিন বছরে আদায়ের টার্গেট করা হয়েছে ৬ লাখ ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। আর এ জন্য ভ্যাটের আওতা আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ফলে একজন নাগরিককে পদে পদে ভ্যাট দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। অর্থ বিভাগ ও এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে চরম ব্যর্থতার পরও অর্থ বিভাগ মনে করছে মধ্যমেয়াদে এ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনুবিভাগের বক্তব্য হচ্ছে, ‘রাজস্ব খাতে গৃহীত সংস্কার কর্মসূচি এবং কোভিড-১৯ মহামারীর ক্ষতি পোষাতে সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা, যা কি না চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আহরণ গড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি প্রয়োজন। (প্রসঙ্গত, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রকৃত রাজস্ব আহরণ হয়েছিল দুই লাখ ৫১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।) আশা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেমনÑ ২০২০ এর মাঝামাঝি নাগাদ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) স্থাপনসহ মূসক আইনের পূর্ণ প্রয়োগ এবং নতুন শুল্ক আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী হবে।’

এ দিকে, তিন বছরে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে তার মধ্যে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে আদায়ের টার্গেট তিন লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে আদায় করা হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আদায়ের টার্গেট প্রক্ষেপণ করা হয়েছে চার লাখ ৩১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে আসবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ৯২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ ২৬ হাজার ৮২০ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায়ের টার্গেটের বড় অংশটি আসবে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক খাত থেকে। আগামী তিন বছরে এই খাত থেকে যথাক্রমে এক লাখ ৭৬ হাজার, এক লাখ ৯৯ হাজার ৯৫০ কোটি এবং দুই লাখ ২৬ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা আদায়ের টার্গেট রয়েছে। এরপরই আয়ের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে রাখা হয়েছে আয়কর ও মুনাফা কর খাতকে। এ খাত থেকে তিন বছরে যথাক্রমে এক লাখ এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা, এক লাখ ২৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা এবং এক লাখ ৪৭ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা আয়ের টার্গেট ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত হচ্ছে, ‘যেহেতু এনবিআর প্রধান রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা, মোট রাজস্ব আহরণের ধারণা পেতে এনবিআর করের উৎসগুলো থেকে রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আয় ও মুনাফা কর, শুল্ক কর এবং মূসক ও সম্পূরক শুল্ক হতে রাজস্ব আদায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রকৃত আদায় থেকে গড়ে যথাক্রমে ৩০.২ শতাংশ, ২২.৩ শতাংশ এবং ১৯.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, এনবিআরের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যমেয়াদে রাজস্ব প্রাপ্তির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বিদ্যমান রাজস্ব কাঠামো দিয়ে অর্জন করা কখনোই সম্ভব হবে না। এ জন্য রাজস্ব খাতকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *