রাজধানীতে কমেছে অপরাধ ও মামলা

রাজধানীতে কমেছে অপরাধ ও মামলা

তাজা খবর:

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তারের মধ্যে রাজধানীতে খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণসহ প্রায় সব ধরনের অপরাধ কমেছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল ও সুনির্দিষ্ট তথ্যে দাগি আসামি ছাড়া সাধারণ অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযানও প্রায় বন্ধ।

মাদকবিরোধী অভিযানও প্রায় শূন্যের কোঠায়। রাজধানীর থানাগুলোতে আস্বাভাবিকহারে কমে গেছে মামলার সংখ্যা। গত তিন মাসে রাজধানীর থানাগুলোতে মামলার সংখ্য কমেছে প্রায় ৮৩ শতাংশ। সারা দেশে একই সময়ে মামলার সংখ্যা কমেছে ৬০ ভাগ।

অপরাধ কমে যাওয়ায় থানাগুলোতে সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও কমে গেছে। তবে অনেকে মনে করেন, এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চসংখ্যক পুলিশ সদস্য প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবরে রাজধানীবাসীর অনেকেই ভয়ে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া থানামুখী হচ্ছেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মাসিক অপরাধ বিষয়ক রিপোর্টে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মামলা হয়েছে গড়ে দুই হাজার ২০০টি করে। এর মধ্যে সর্বশেষ মার্চ মাসে মামলার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৫টি। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২ হাজার ১৩১টি। এপ্রিলে তা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৩৪৯টিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৪৯টি। এর মধ্যে ধর্ষণ মামলার সংখ্যা ১৪টি।

ডিএমপির মাসিক অপরাধ বিষয়ক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গত বছর মাসে গড়ে ১৭টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটলেও করোনার ঠিক আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও ২১টি করে খুনের ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিলে খুনের ঘটনা কমে যায় ৮টিতে। গত ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন শুরুর পর থেকেই রাজধানীতে অপরাধ কমতে থাকে। পুলিশ কমর্কতারা অপরাধ কমে আসাকে ইতিবাচক বলছেন।

তবে করোনার এ দুঃসময়ে বেড়েছে নারী নির্যাতন মামলা। এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার কর্মী নূর খান যুগান্তরকে বলেছেন, করোনার কারণে মানুষ ঘরে থাকছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের আয়ে টান পড়েছে। পারিবারিক অসহিষ্ণুতা বেড়েছে। অভাব-অনটনের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াও বেড়েছে। এর ফলে বেড়েছে নির্যাতনের ঘটনা।

মামলার সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, মামলার পরিসংখ্যান অপরাধের প্রকৃত চিত্র হতে পারে না। পরিবর্তিত এ পরিস্থিতিতে পুলিশের কাছ থেকে সমাধান পাওয়ার যাবে কিনা- এ অনিশ্চয়তা থেকে অনেকেই থানামুখী হচ্ছেন না। যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত থাকায় অনেকেই স্থানীয়ভাবেও বিরোধ সুরাহা করছেন।

পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেছেন, করোনার কারণে অপরাধপ্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে পুলিশের বসে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনার এ সময়ে সারা দেশে পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। পুলিশ সদস্যরা কখনও মৃত ব্যক্তির সৎকার, জানাজা, করোনা আক্রান্ত পলাতক রোগীদের ধরে আনা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে করোনা আক্রান্তের বাসা, ভবন ও এলাকা লকডাউন করা, ত্রাণ বিতরণসহ এ ক্রান্তিকালে হাজারও কাজে পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আর এ কারণে বাহিনী হিসেবে পুলিশ সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ডিএমপির দুজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১২৮৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ পুলিশ সদস্য। বিপুলসংখ্যক সদস্য করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর বাহিনীর সদস্যদের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *